নিজস্ব প্রতিবেদক

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১০ জুলাই ২০২৩ ০২:৫৮



যে গ্রামের প্রতিটি ঘরেই আলপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১০ জুলাই ২০২৩ ০২:৫৮


ছবি : বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

আলপনা গ্রাম, মানুষ এই নামেই এখন চেনে গ্রামটাকে। আসলে নাম টিকোইল গ্রাম। এই গ্রামে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে মনে হবে লাল, নীল, আকাশি, সবুজ অজস্র রঙের ছটায় চারপাশ যেন রঙিন হয়ে উঠেছে। এ যেন রং-তুলিতে আঁকা বর্ণিল একটি ছবি! গ্রামের প্রতিটি বাড়ির দেয়াল যেন এক একটি ক্যানভাস। গ্রামটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নে।

গ্রামের মানুষের নিজেদের বাসস্থান তো বটেই, এমনকি রান্নাঘর কিংবা গোয়াল ঘরের দেয়ালেও চোখে পরবে আলপনা। দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ফুল, লতা-পাতা, গাছ, নদী, নৌকা, পাখি, আকাশ।

আলপনা গ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে একেক জনের একেক রকম মতামত। তবে স্থানীয়দের মতে, দাসু বর্মণের স্ত্রী দেখনবালা প্রায় চল্লিশ বছর আগে বধূ সেজে এসেছিলেন এই গ্রামে। তখন থেকেই আলপনা শুরু।

আলপনা গ্রামের আলপনার রূপকাররা কোনো পেশাদার চিত্রশিল্পী না। মূলত এই গ্রামের নারীরা, প্রথমদিকে শারদীয় দূর্গা উৎসবে বাড়িগুলো নানান রকম আলপনায় সাজাতেন। পরে গ্রামের সবাই হয়ে উঠেন আর্টিস্ট। নারী-পুরুষ তো বটেই, গ্রামের শিশুরাও মেতে ওঠে রং নিয়ে। রংও সব প্রাকৃতিক। লাল মাটি ভিজিয়ে লাল রঙ, আর সাদা রঙ তৈরিতে সাধারণত ব্যবহার করা হয় আতপ চালের গুড়া। এছাড়া চক পাওডার, আমের পুরাতন শাঁস চুর্ণ, মানকচু ও কলাগাছের কস দিয়ে রং স্থায়ী করা হয়।

জেডএস/