নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
৩০ জুলাই ২০২৩ ০৬:৪৩
ছবি : বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
ঝুঁকিপূর্ণ
হয়ে গেছে শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরা মহারাজার কাচারি বাড়ি। এজন্য সংস্কারের উদ্যোগ
নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাজেট বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু
হবে বলে জানালেন, উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। ফিরোজ হোসেনের রিপোর্ট।
রক্ষণাবেক্ষণ
আর সংস্কারের অভাবে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো।
ইতিমধ্যে এসব পুরাকীর্তির কোনোটি আংশিক এবং কোনোটি পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
এরমধ্যে সম্প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরা মহারাজার
কাচারি বাড়িটি।
ঐতিহাসিক
এই নিদর্শনটি চায়ের রাজ্যখ্যাত পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কালের সাক্ষী
হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ১৮৯৭ সালে ত্রিপুরা মহারাজা এ কাচারি বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন।
শ্রীমঙ্গল
শহরের হবিগঞ্জ রোড বা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে দৃষ্টিনন্দন ত্রিপুরা মহারাজার স্থাপনা
কাচারি বাড়িটি। পাশেই রয়েছে শ্রীমঙ্গল ভূমি অফিস, শান বাঁধানো ঘাটসহ একটি বিশাল পুকুর
আর 'কাচারি জামে মসজিদ'।
শতাধিক বছরের
পুরনো একতলা কাচারি বাড়িতে ৩টি কক্ষ, ৮টি দরজা ও ৯টি জানালা রয়েছে। ভবনটি প্রস্থে
৩০ ফুট ও দৈর্ঘ্যে ২০ ফুট লম্বা। প্রতিটি দেয়াল ১২ ইঞ্চি চওড়া চুন-সুরকি দ্বারা নির্মিত।
ত্রিপুরা রাজার এ কাচারি বাড়িটি ১ দশমিক ৬৭ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
দীর্ঘদিন
অযত্ন-অবহেলায় এটি এখন এতটাই জনাজীর্ন যে, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বসে নেই
উপজেলা প্রসাশন। বর্তমানে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবনটির আদিরূপ অক্ষুণ্ন
রেখে তা সংস্কারের জন্য চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এখন বাজেটে বরাদ্দ পেলেই
সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে।
ত্রিপুরা
মহারাজার স্মৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক এ ভবনটি এক সময় সৌন্দর্য্যে ভরপুর ছিলো। তাই বাড়িটির
আদিরূপ ফিরে পেলে নতুন প্রজন্মসহ নানান দেশের পর্যটক ও দেশের পর্যটকরা ত্রিপুরা মহারাজার
সম্পর্কে জানতে পারবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জেডএস/