কনটেন্ট ক্রিয়েটর

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৪ আগস্ট ২০২২ ০৩:১১



পর্যটক সংকটে জাপান!

কনটেন্ট ক্রিয়েটর, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৪ আগস্ট ২০২২ ০৩:১১

পর্যটক সংকটে জাপান!

শিন্তো মন্দির ইয়াসাকা। বরাবরই জনারণ্য থাকে এখানে। ছবি, সিএনএন

২০২২ সালে গোটা গ্রীষ্মজুড়ে পশ্চিমা বিশ্বে কয়েকটি ভ্রমণ দুর্ঘটনা ঘটে। জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য ও বিমান বন্দরে অতিরিক্ত ভিড় তো ছিলই। সঙ্গে নতুন করে ইউরোপের হিট ওয়েভ ছিল টক অব দ্যা টাউন।

সম্প্রতি এশিয়ার  বিভিন্ন দেশ পর্যটকদের জন্য খুলে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে সেসব দেশে পর্যটকদের আনাগোনা যাচ্ছে বেড়ে। হুটহাট ফ্লাইট বাতিল বা লাগেজ হারানোর মতো অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর কথা আর আগের মতো শোনা যাচ্ছে না।

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটছে। জাপান সরকারও তাই এ বছর জুন মাসে তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছিল পর্যটকদের জন্য। কিন্তু বাস্তবতা প্রত্যাশাকে ছুঁতে পারছে কই।

জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্য একটু হতাশাজনক। ১০ জুন থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে দেশটি মাত্র পনের শ’ পর্যটককে স্বাগত জানাতে পেরেছে। ২০১৯ সালের এ সময়র তুলনায় যা রীতিমতো ৯৫% কম!

বহুকাল ধরে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়তম ভ্রমণগন্তব্যগুলোর একটি জাপান। মানুষের অবরূদ্ধকাল যখন অনেকটাই কেটে গেছে, তখন এমন খরার কারণ কী। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা তিনটি বিষয়কে আমলে এনেছেন। 

একলা চলতে বাধা

জাপান পর্যটকদের জন্য খুলে গেছে, কিন্তু আরোপিত হয়েছে কিছু কঠিন নিয়ম। তার একটি, একা ভ্রমণ করা যাবে না। সংগঠিত দলের সাথে ভ্রমণ করতে হবে। উপরন্তু, মেনে চলতে হবে কঠোর সময়সূচি।

ভ্রমণপিয়াসীদের একটা বড় অংশ স্বভাবতই এমন সব নিয়ম মেনে চলতে তাদের  ইচ্ছুক নন। কাজেই নতুন গন্তব্য বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। 

কোথায় ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং?

চীনাদের ভ্রমণের ইতিহাস সহস্রাব্দ প্রাচীন। দুজন বিখ্যাত পরিব্রাজকের নাম ঐতিহাসিক কারণে গোটা এশিয়ার মানুষ জানে। ফাহিয়েন ও হিউয়েন সাং। একজন চার শতকের, অপরজন সাত শতকের পরিব্রাজক।

শুধুমাত্র ২০১৯ সালে, প্রায় ৯২ লাখ চীনা পর্যটর জাপান ভ্রমণ করেছিলেন। বর্তমানে চীনে কঠোর কোভিড নীতির কারণে দেশটির নাগরিকদের ভ্রমণে আরোপিত হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এর প্রভাব না পড়ে যাবে কোথায়।

উল্লেখ্য, শুধুমাত্র জাপান নয়। চীনা পর্যটকদের অভাবে কাঁদছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও এশিয়ার বাইরে অস্ট্রেলিয়ার মতো ভ্রমণগন্তব্য।    

দরজা কি খুলেছে আদৌ?

যে ধরনের নিয়মকানুন আরোপিত হয়েছে তাতে প্রশ্ন জাগে, দরজা কি খুলেছে আদৌ? একা বেড়াতে না পারা, ভ্রমণে সময়সূচি মানা, মাস্ক ব্যবহারের কঠোর নীতি এসব ছাপিয়ে দলবদ্ধ ভ্রমণও জাপানে হয়ে পড়েছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। উপরন্তু ভ্রমণের শর্ত হিসেবে মানতে হবে কঠোর কোয়ারেন্টাইন। সব মিলিয়ে খোলা দরজাটাও ভ্রমণকারীদের কাছে মনে হচ্ছে অত্যন্ত সংকীর্ণ।

এতো কিছুর পরও জাপানের মুখে মৃদু হলেও হাসি ফুটিয়েছে থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া। জুন মাসে শুধু এই দুই দেশ থেকেই এসেছে চারশ পর্যটক। এরপরই লক্ষ্মী যুক্তরাষ্ট্র। সে দেশ থেকে এসেছে দেড়শ নাগরিক।

পরিশেষে

ভ্রমণে এতোসব বাধ্যবাধকতা খানিক হলেও শিথিল করলে হয়ত আবারও জাপান পর্যটকদের পদচারনায় মুখর হবে। কারণ বিশ্বের ভ্রমণপিয়াসীদের উইশলিস্টের চূড়ার দিকেই আছে জাপান। পর্যটনের সাম্প্রতিক ইতিহাস তাই বলে।  

সূত্রঃ সিএনএন

/এসবি/এইচকে