ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১০ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:১২
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দুটি ভয়াবহ দাবানল বৃহস্পতিবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। তবে, হলিউড বুলেভার্ড সংলগ্ন পাহাড়ে আরেকটি ছোট আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
পালিসেডস
ও ইটন নামের দাবানল ইতোমধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসের ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক বলে বিবেচিত
হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার একর জমি পুড়ে ছাই হয়েছে, যা ডিজনি ওয়ার্ল্ডের
আকারকেও ছাড়িয়ে গেছে। পাঁচজন নিহত এবং হাজারো কাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার
ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পালিসেডস এবং ইটন দাবানল
পুরোপুরি অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছিল। এ দুই দাবানল এমনভাবে শহরটিকে ঘিরে রেখেছে যে
তা মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান।
লস অ্যাঞ্জেলেসের
মেয়র কারেন বাস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এটি একটি বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
হলিউড ও
হলিউড হিলস এলাকায় বুধবার রাতের দাবানলে বাধ্যতামূলকভাবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া
হয়। টিসিএল চাইনিজ থিয়েটার এবং হলিউড ওয়াক অব ফেমের মতো বিখ্যাত স্থানগুলো এ আগুনের
কবলে পড়ে। তবে, ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এলাকাটিতে কোনও কাঠামো ধ্বংস হয়নি
এবং বেশিরভাগ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তীব্র বাতাসের
কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জাতীয় আবহাওয়া অধিদফতর লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ভেনচুরা
কাউন্টিতে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতা জারি করেছে। বাতাসের গতিবেগ
ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ মাইল পর্যন্ত হতে পারে।
অভিজাত প্যাসিফিক
পালিসেডস এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের পানি ও বিদ্যুৎ বিভাগের
প্রধান জানিসে কুইনোনেস বলেন, শহুরে পানি ব্যবস্থার মাধ্যমে দাবানল মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
প্যাসিফিক
পালিসেডসের দাবানলে ১৭ হাজার ২৩৪ একর জমি এবং শতাধিক কাঠামো পুড়ে গেছে। এ এলাকায়
বিলি ক্রিস্টাল এবং প্যারিস হিলটনের মতো তারকাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার এই দাবানলের বিষয়ে ব্রিফিং করেছেন এবং ফেডারেল
সহায়তার বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
অতিরিক্ত
কর্মী ও সরঞ্জাম নিয়ে অন্য ছয়টি রাজ্য থেকে দমকল বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত ক্যালিফোর্নিয়ায়
পাঠানো হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার চিফ জানিয়েছেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে ২৫০টি ইঞ্জিন
এবং ১ হাজার কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
/এসবি