ডেস্ক রিপোর্ট
বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর
১৭ জুন ২০২৫ ১০:৪৭
ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৭ জুন ২০২৫ ১০:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের এই অভিযোগ মীমাংসা করতে সালিস বৈঠকের আয়োজন করে গ্রামের মাতবররা। আর এ ঘটনায় তারা শুধুমাত্র চড়-থাপ্পড়ে মীমাংসা করে দিয়েছে বলে জানায় শিশুটির পরিবার। ভুক্তভোগী শিশু বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় শিশুকে নিয়ে
তার বাবা-মা বসে আছেন।
শিশুর মা বলেন, গত বুধবার (১১ জুন) সকাল ৯টার দিকে আমি আমার মাকে বাড়িতে এগিয়ে
দিতে গিয়েছিলাম। এই সুযোগে বিশা নামের এক প্রতিবেশী আমার মেয়েকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে
যায়। এর কিছুক্ষণ পরে মেয়েকে ওই বাড়ি থেকে খোঁড়াতে খোঁড়াতে আসতে দেখে সন্দেহ হয়। এ
সময় কী হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, বিশা দাদা আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে। বিষয়টি
গ্রামের মুরুব্বিদের জানালে তারা পরদিন বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাতে বাড়ির ওপর সালিশ
বসায়। সালিশে অভিযুক্ত বিশাকে মাতব্বররা চড়-থাপ্পড় দিয়ে শিশু ধর্ষণের বিচার করে শেষ
করে।
ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে থানায় যাইনি। মেম্বর
ও সমাজপ্রধান বলেছে, আগে চিকিৎসা নিয়ে আসো, তারপর মামলা করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।
আমিও মামলা করব।
সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকা ইউপি সদস্য মতিউর রহমান লিওন বলেন, ঘটনাটি জানার পর
ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা করতে বলেছিলাম। তারা যায়নি। তবে সালিশে চড়-থাপ্পড় মেরে মীমাংসা
করেছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাই-ভাতিজারা। আমি শুধু উপস্থিত ছিলাম।
স্থানীয় সমাজ প্রধান রহিম মন্ডল বলেন, সামাজিকভাবে আমরা একটা মীমাংসার চেষ্টা
করেছিলাম। সেখানে অভিযুক্তকে চর-থাপ্পড় মারা হয়েছিল। ধর্ষণের মতো ঘটনার বিচার সালিশ
করে সমাধান করতে পারেন কি না, জানতে চাইলে রহিম মন্ডল বলেন, ‘আমি তাদের মামলাও করতে
বলেছিলাম। কিন্তু তারা তা করেনি। আমি সব সময় শিশুর খবর রাখছি।’
জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের সঙ্গে একই বাড়িতে
থাকেন বিশা। শিশু ধর্ষণের অভিযোগ জানাজানির পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। শিশু ধর্ষণ
অভিযোগের ব্যাপারে তার পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান,
শিশুকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
/এসবি