ডেস্ক রিপোর্ট
বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৭
ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৭
ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহ সদরের বাড়িবাথান গ্রামে ভোটের প্রচারের নামে বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বাড়িবাথান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী
মো. রওশন আলী লস্কর বাড়িবাথান গ্রামের মৃত আবদুল গনির ছেলে। রওশন আলীর বাড়ি রাস্তার
পাশেই। তার মা আছিয়া বেগম বলেন, ‘সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রাস্তার পাশে বাড়ির দরজায়
কয়েকজন লোক টোকা দিতে থাকে। আমি এগিয়ে কারা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, ‘‘আমরা ভোট চাইতে
এসেছি।’’ তখন আমি বলি, বাড়িতে কোনও পুরুষ মানুষ নেই। তারা বলে, শুধু মার্কা দেখিয়েই
চলে যাবো। তখন ৬ ও ৪ বছর বয়সী দুই নাতিকে নিয়ে দরজা খুলে দিই। তারা জোর করে বাড়ির
মধ্যে প্রবেশ করে আমার দুই নাতির মাথায় অস্ত্র ধরে। তাদের মুখে টেপ মেরে ধরে রাখে।
আমার ঘাড়ে ধারালো দা ধরে রাখে। মুখে টেপ মারার চেষ্টা করে। এ সময় আমার পুত্রবধূ এগিয়ে
এলে তার ঘাড়ে আঘাত করে।’
পরিবারের
সদস্যরা জানান, ডাকাতরা বাড়ির উত্তর দিকের ঘরে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙে তিন ভরি সোনার
গয়না ও নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে যায়। তারা সবাই ৩০-৩৫ বছর বয়সী ছিল। তারা একটি মোটরসাইকেলে
করে এসেছিল। তাদের দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
রওশন আলী
জানান, স্থানীয় বানিয়াকান্দর জামতলা বাজারে রওশন ট্রেডার্স নামে তার একটি সার ও কীটনাশকের
দোকান রয়েছে। তিনি দোকানেই ছিলেন। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে ফোন করে
জানানো হয়, বাড়িতে ভোট চাওয়ার নাম করে কয়েকজন প্রবেশ করে ডাকাতি করেছে। খবর শুনে তিনি
বাড়িতে যান। বাড়িতে তার মা, স্ত্রী, ছোট ছোট তিন ছেলে থাকে। ঘটনার সময় বাড়িতে কোনও
বয়স্ক পুরুষ মানুষ ছিলেন না।
স্থানীয়
বাসিন্দা শাকিল আহমেদ জানান, সন্ধ্যার পরপরই ভোট চাওয়ার নাম করে এমন ডাকাতির ঘটনায়
এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সদর থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানান, ঘটনা শোনার পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ
গিয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে
আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝিনাইদহের
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ।
ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
/এসবি