ডেস্ক রিপোর্ট
বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০২
ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০২
ছবি: সংগৃহীত
‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ পূর্বনির্ধারিত তারিখে অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা একাডেমি। প্রকাশকেরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসলেও পেছানো হচ্ছে না একুশে বইমেলা।
‘অমর একুশে
বইমেলা ২০২৬’ পূর্বনির্ধারিত তারিখে অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু করার চূড়ান্ত
সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা একাডেমি। প্রকাশকেরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের
দাবি জানিয়ে আসলেও পেছানো হচ্ছে না একুশে বইমেলা।
বৃহস্পতিবার
বিকেলে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের উপপরিচালক নার্গিস সানজিদা সুলতানা স্বাক্ষরিত
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
‘অমর একুশে
বইমেলা ২০২৬ প্রসঙ্গে বইমেলা সদস্য-সচিব-এর বক্তব্য’ শীর্ষক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা
হয়– বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে (ড. মুহম্মদ
শহীদুল্লাহ্ ভবনের চতুর্থ তলায়) আসন্ন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ বিষয়ে এক জরুরি সংবাদ
সম্মেলন আয়োজন করা হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং অমর একুশে
বইমেলা ২০২৬-এর সদস্য-সচিব ড. মো. সেলিম রেজা সংবাদ সম্মেলনে বইমেলার আয়োজন বিষয়ে একাডেমির
অবস্থান তুলে ধরেন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আসন্ন অমর
একুশে বইমেলার ও অনুষ্ঠানমালা ২০২৬ আয়োজন নিয়ে কিছু মত ও ভিন্নমত নজরে এসেছে উল্লেখ
করে ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘দীর্ঘকাল ধরে একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি
প্রকাশক ও অন্যান্য অংশীজনদের সমন্বয়ে ভাষাশহিদের স্মরণে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা
ও অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করে আসছে। মাসব্যাপী এই বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা এখন আমাদের সাংস্কৃতিক
ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু অনিবার্য বাস্তবতার কারণে অন্যান্য বছরের মতো এ বছর
বইমেলা পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করা সম্ভব হয়নি। বইমেলা শুরু হচ্ছে ২০শে ফেব্রুয়ারি
থেকে।’
সদস্য সচিব
বলেন, ‘এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পরিচালানা কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং
কমিটির একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক বইমেলা শুরুর
তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় স্টলভাড়া
২৫% কমানো হয়েছে। যদিও বইমেলা আয়োজনের সার্বিক ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।’
ইতোমধ্যে
বইমেলা সংক্রান্ত বাংলা একাডেমির সকল আয়োজন প্রত্যাশামতো সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে মো.
সেলিম রেজা বলেন, ‘বইমেলার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে। সরকারের
কাছ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্টল নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। বইমেলার
আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্ভাব্য আলোচক ও প্রবন্ধকারদের
চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে
তিনি আরও বলেন, ‘এবার বইমেলায় অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে স্টলের জন্য গতবছর যেসকল
প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছিল তাদের মধ্য থেকে ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন ৫৩টি প্রতিষ্ঠান
আবেদন করেছেন। স্থান সংকুলানের বাস্তবতায় গতবছরের ৫২৭টিসহ নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে
স্টল বরাদ্দের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। গতবছরের চেয়ে বর্ধিত আকারের স্টলের জন্য ৫৬টি
প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণের
জন্য স্টল বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে।’
মেলা পেছাতে
প্রকাশকদের একাংশের দাবির বিষয় বলা হয়, ‘বইমেলার আয়োজনের কাজ যখন ৬০ ভাগ সম্পন্ন, তখন
কিছু সম্মানিত প্রকাশক ঈদের পর বইমেলা আয়োজন করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন। আমরা
প্রকাশকদের বক্তব্য শুনেছি। তাদেরকেও বলা হয়েছে কেন ঈদের পর বইমেলা আয়োজন করা দুরূহ।
তখন এপ্রিল মাস এসে যাবে। এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ থাকে। ধুলোবালির উপদ্রব বাড়ে।
কালবৈশাখীসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকে প্রবল। এই সময় মাসব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা বাস্তবসম্মত
নয়।’
এ প্রসঙ্গে
আরও বলা হয়, ‘সামগ্রিক বাস্তবতার আলোকে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারিতেই বইমেলা শুরু হবে। আমরা
এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেলার সময় নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশকারী সম্মানিত প্রকাশকদের
অনুরোধ করছি কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও বইমেলায় অংশ নিতে এগিয়ে আসার জন্য।’
যা বলছেন
পুস্তক প্রকাশকেরা
ঈদের পর
বইমেলা আয়োজন করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন ২৬২ জন প্রকাশক। ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে
সরকার এ সিদ্ধান্ত না জানালে বইমেলায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ
পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি।
গত ২ ফেব্রুয়ারি
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পক্ষ থেকে এ
হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া স্টল
ও প্যাভিলিয়ন ভাড়া মওকুফ, সরকারি খরচে স্টলের অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষার্থী পাঠকদের
জন্য সরকারি ‘বই-ভাতা’ চালু করা এবং মানসম্মত বইয়ের ন্যূনতম ৩০০ কপি কিনে নেওয়ার চার
দফা দাবিও জানিয়েছে সমিতি।
বাংলাদেশ
পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, রমজানের শুরুতে মেলা আয়োজন হলে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। প্রেস ও বাইন্ডিং শ্রমিক এবং স্টল নির্মাণের কারিগর পাওয়া
কঠিন হবে। তাই পাঠকশূন্য মেলায় স্টল নিলে নিশ্চিত লোকসান হবে।
ইউনিভার্সিটি
প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রকাশক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘সামনে ঈদ, এ সময় বাজেটের
সিংহভাগই চলে যায় মানুষের পোশাক ও খাদ্যদ্রব্যে। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
বন্ধ থাকার ফলে মেলার প্রধান ক্রেতা শিক্ষার্থীরা ঢাকায় থাকবেন না। পাঠকশূন্য মেলায়
স্টল নেওয়া এবং জেনেশুনে বিষপান করা একই কথা।’
প্রকাশকেরা
বলেন, অমর একুশে বইমেলা কেবল বই বিক্রির স্থান নয়, এটি বাংলাদেশি জাতিসত্তা ও সাংস্কৃতিক
পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশে প্রকাশিত ৯৫ শতাংশ বইয়ের প্রথম মুদ্রণ ৩০০ কপি বা তার
কম বিক্রি হয়। আর এর ৭০ শতাংশ বই অবিক্রিত থেকে যায়। প্রকাশকেরা জানান, দেড় বছরে বই
বিক্রি কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে এ বছর একুশে বইমেলার তারিখ পরিবর্তন
জরুরি।
অন্যপ্রকাশের
প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মেলা চাই না এটা আমরা কখনোই বলিনি। মেলা অবশ্যই চাই।
সময়টিকে বিবেচনা করতে বলেছি। যদি দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা মেলায় অংশ নিচ্ছি না—
এটা স্পষ্ট।’
মাহরুখ মহিউদ্দিন
আরও বলেন, ‘৯ ফেব্রুয়ারির পর ২৬২ জন প্রকাশকসহ সাধারণ প্রকাশকদের জন্য আসন্ন বইমেলায়
অংশ নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা মেলা চাই, কিন্তু লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে
ধ্বংস হতে চাই না।’
সংবাদ সম্মেলনের
পর অমর একুশে গ্রন্থমেলার তারিখ পরিবর্তনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছেও
স্মারকলিপি দিয়েছে প্রকাশক সমিতি।
/এসবি