ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৫ মে ২০২৩ ০৭:৩২
ছবি: সংগৃহীত
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণনাশী হলো ভূমিকম্প।
ঝড়-বৃষ্টি বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম খবর পেয়ে প্রস্তুতি নিলে এড়ানো
যায় প্রাণহানি। কিন্তু ভূমিকম্পে তেমন কোনো আগাম বার্তা না পাওয়ায় নিরাপদ স্থান
ঘরের মধ্যে অবস্থান করেও মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় অনেককে।
প্রধানত ৩টি কারণে পৃথিবীতে ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ভূপৃষ্ঠজনিত, আগ্নেয়গিরির
বিস্ফোরণ ও গলিত লাভা উৎক্ষিপ্ত হওয়াসহ পৃথিবীর অভন্তরীণ শিলাচ্যুতির কারণে ভূকম্পন
হয়ে থাকে। প্রায় একই কারণে সাগরের তলদেশে ঘটে থাকে সুনামি।
পৃথিবীতে অসংখ্যবার ছোট-বড় ভূমিকম্প ঘটলেও কয়েকটি ভূমিকম্পে ব্যাপক
প্রাণহানির ইতিহাস রয়েছে। ১৯৭৬ সালে চীনের হেবেল প্রদেশে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার
ভূমিকম্পে মারা যান ২ লাখ ৪২ হাজার মানুষ। ২০০৩ সালে ইরানের বাম শহরে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার
ভূকম্পনে প্রাণ হারান ২৬ হাজার মানুষ। ২০০৫ সালে ভূমিকম্পে পাকিস্তানের কাশ্মিরে
মারা গেছেন প্রায় এক লাখ মানুষ।
২০০৮ সালে চীনের সিচুয়ানে প্রাণ হারান ৯০ হাজার মানুষ। ২০১০ সালে
ক্যারিবিয়ান দ্বীপ হাইতিতে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত্যুবরণ করেন ২ লাখ
২০ হাজার মানুষ।
তবে সবাইকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বড় এলাকাজুড়ে ভূমিকম্প ও সুনামির জন্য ২০০৪ সালকে
মনে রেখেছেন বিশ্ববাসী। ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভয়ংকর ওই সুনামিতে কয়েকটি দেশে মারা গেছেন ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। আর মাস তিনেক আগে
তুরস্কে প্রাণ হারান ৪০ হাজার মানুষ।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ এর আশপাশের কয়েকটি জেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ মে) সকাল ৫টা ৫৭ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিক কোনো
ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, রিখটার
স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার
দূরে দোহারে। আর ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
এমএইচ/