ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১৬ মে ২০২৩ ১১:৪৬



বাংলাদেশে আঘাত হেনেছিল যেসব বড় ঝড় (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১৬ মে ২০২৩ ১১:৪৬


ছবি: সংগৃহিত

দেশের মানুষ আবারও দেখল ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব। তবে শেষ সময় এসে মিয়ানমারের দিকে মোখার দিক পরিবর্তন ও আগেই মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় তেমন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেই সঙ্গে কয়েক দশকে দেশের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝড়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পেরেছে। তবে এর আগে বঙ্গোপসাগরে সাগরে সৃষ্ট কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোনকে বলা হয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়। অন্তত তিন লাখ মানুষের প্রাণহানি হয় সেবার। বরিশাল বিভাগের লাখো বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয় । নষ্ট হয় ফসলি জমি। 

তবে ১৯৮৮ সালের নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ও ছিল বেশ বিধ্বংসী। এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দেশে যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বনাশা বন্যা হিসেবে পরিচিত।

এরপর ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ভয়াবহ প্রাণহানি দেখে দেশের মানুষ। মারা যান প্রায় দেড় লাখ মানুষ। তখন মে মাসের একেবারে শেষভাগে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম আর কক্সবাজারে আঘাত হানে এই ঘূর্ণিঝড়। সে সময় প্রাণহানির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ছয় হাজার কোটি টাকা।

২০০৭-এ দেশের অন্যতম ঘূর্ণিঝড়ের নাম সিডর। নভেম্বরের মাঝামাঝি এই অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে। বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের সময় মারা যান প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এই ঝড়ের কারণে প্রায় ছয় লাখ টন ফসল নষ্ট হয়, প্রাণ যায় বহু গবাদিপশুর। ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে সুন্দরবনেরও ক্ষয়ক্ষতি হয় ব্যাপক।

এরপর ২০০৮ সালে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় নার্গিস। তবে সেবার বাংলাদেশের তেমন ক্ষতি না হলেও মিয়ানমারে প্রাণ হারান এক লাখ মানুষ। আর ২০০৯ সালে বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় আইলা। ঝড়টি সল্প সময় স্থায়ী হলেও প্রাণ কেড়েছে প্রায় ২০০ মানুষের। তবে আইলা পরবর্তী সময়ে এক প্রকার বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। বাঁধ ভেঙে নষ্ট হয় মাছের ঘের আর ফসসি জমি। গৃহহীন হন লাখো মানুষ। আইলার চিহ্ন এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন সাতক্ষীরা অঞ্চলের মানুষ।

২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন বাংলাদেশের নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে। এই ঝড়ে মারা যান প্রায় ২০ জন মানুষ। ২০১৫ সালে ঘূর্ণিঝড় কোমেন দেশের চট্টগ্রাম আর কক্সবাজারের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এ সময় ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক পরিমাণে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আর ২০১৬ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত হানে বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে। সেই ঝড়ের কারণেও মারা যান প্রায় ৩০ জন মানুষ।

২০১৯ সালের ফনা তুলে এ দেশের দিকে ধেয়ে আসে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতিও ছিল ব্যাপক। তারপরও ঝড়ের সময় দেয়ালচাপা পড়ে এবং গাছের ডাল পড়ে নিহত হন প্রায় ১০ জন। ৫০০ কোটির বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ।

সর্বশেষ ২০২০ সালে বাংলাদেশে আঘাত হানে আরেকটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। বরাবরের মতই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হন এই ঝড়ে। লাখো মানুষ গৃহহীন হন। প্লাবনে বাঁধ ভেঙে প্রচুর ফসল নষ্ট হয় উপকূলীয় অঞ্চলে।

ইউএইচ/এইচআই