ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১৩ জুন ২০২৩ ০১:৪৪



বাবার মতই আদর্শে অবিচল ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১৩ জুন ২০২৩ ০১:৪৪


ছবি : বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, এক কিংবদন্তীর নাম। তার বাবা ছিলেন আরেক কিংবদন্তী, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। বাবার মতোই মোহাম্মদ নাসিমও ছিলেন এক সাহসী রাজনীতিক, রাজপথের লড়াকু যোদ্ধা, আদর্শে অবিচল। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম ও বেড়ে উঠায় রাজনীতির প্রথম পাঠ নেন পরিবারেই, সেই শৈশবে। একসময় যুক্ত হন  সক্রিয় রাজনীতিতে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ হয়ে আওয়ামী লীগ। দেশের রাজনীতির দীর্ঘ অধ্যায়জুড়ে ছিলেন নাসিম। প্রায় ছয় দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী এ নেতার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের এ দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় হয় এ বর্ষীয়ান নেতার। 

মোহাম্মদ নাসিমের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায়। পিতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও মাতা আমেনা মনসুর। জাতীয় চার নেতার একজন এম মনসুর আলী, পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বর কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে খুন হন। তবে বাবাকে হারিয়ে দমে যাননি মোহাম্মদ নাসিম। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পাশে থেকে দল পুনর্গঠনে কাজ করেন।

মোহাম্মদ নাসিম জগন্নাথ কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী ছিলেন। স্বাধীনতার পর যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। এরপর ১৯৮১ সালের সম্মেলনে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুব সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৭ সালে দলের প্রচার সম্পাদক হন নাসিম। ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে পরপর দুবার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান নাসিম। ওই সময় দলে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ একটি ছিল।

১৯৮৬ সালে প্রথম সিরাজগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করে সাংসদ নির্বাচিত হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই একই আসন থেকে এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মাঝে বিতর্কিত মামলার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে তার ছেলে তানভীর শাকিল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০২ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১ নম্বর সদস্য পদে ছিলেন নাসিম। এরপর ২০১২ সালের সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। টানা তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪–দলীয় জোটের মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু বেশির ভাগ সময় মোহাম্মদ নাসিমকে ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনও করতে হতো।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হন মোহাম্মদ নাসিম। পরের বছর আরও একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। ডাক ও টেলিযোগাযোগের পাশাপাশি তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এরপর ১৯৯৯ সালে মন্ত্রিসভা রদবদল করা হলে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওইসময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয়  জেলাগুলো থেকে চরমপন্থীমুক্ত করতে বিশেষ ভুমিকা রাখেন মোহাম্মদ নাসিম। চরমপন্থী গ্রুপগুলোর অপরাধ তৎপরতা ঠেকানোর জন্য আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৯ সালে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ মোহাম্মদ নাসিম এই দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ‘সন্ত্রাসী পেশা ছাড়ুন আলোকিত জীবন গড়ুন’- এ স্লোগান সামনে রেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। এরপর ২০১৪ সালের সরকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। সর্বশেষ খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয় তাকে।

রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মোহাম্মদ নাসিমের। সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন সময় নির্যাতন সহ্য করেছেন। আলোচিত এক–এগারো সরকারের সময়েও গেছেন কারাগারে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার বাবার মতোই বঙ্গবন্ধু পরিবারের আস্থাভাজন ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম।

জেডএস/