ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৩ অক্টোবর ২০২২ ০৯:০৪
ছবি: সংগৃহীত
ইতালির প্রথম
নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী কট্টর ডানপন্থী
রাজনীতিক জর্জিয়া মেলোনি। শনিবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে শপথ নিয়েছেন তিনি। আর
এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার পেলো ইতালি।
জাতীয়তাবাদী
রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালির প্রধান মেলোনি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির
নেতৃত্বাধীন ফোরজা ইতালিয়া ও মাত্তেও সালভিনির লিগের সঙ্গে জোট বেঁধে গত মাসে অনুষ্ঠিত
জাতীয় নির্বাচনে জয় পান।
শনিবার শপথগ্রহণের
মাধ্যমে ২১ শতকের ১২তম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির ৬৮তম সরকারের প্রধান হলেন
মেলোনি। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের সাবেক প্রধান মারিও দ্রাগি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যের
প্রশাসনের স্থলাভিষিক্ত হবে মেলোনির সরকার।
দেশটির এই
সরকার এই মুহূর্তে কয়েকটি ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে মন্দা, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি দাম এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে একটি ঐক্যফ্রন্ট
গঠন অন্যতম।
মেলোনি ইউক্রেনের
প্রতি সহায়তার অঙ্গীকার করলেও তার জোট সরকারের সঙ্গী বার্লুসকোনি ভিন্নপথে হাঁটছেন।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের জন্য চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইউক্রেনকেই দায়ী করেন তিনি।
একই সঙ্গে তার পুরোনো বন্ধু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘উপহার’
এবং ‘চমকপ্রদ চিঠি’
বিনিময় করেছেন বার্লুসকোনি।
গত সেপ্টেম্বরে
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইতালিতে। বুথ ফেরত সমীক্ষা থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে মেলোনি
জিততে চলেছেন। সেই মতো এবার তিনি সরকার গঠন করলেন। এই জয়ের ফলে ইউরোপের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে
বড় বদল আসল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গত মাসেই সুইডেনেও কট্টর ডানপন্থী দল সরকার গঠন
করেছিল। আর এবার সেই একই ঘটনা ঘটল ইতালিতেও।
মেলোনি ইউরোপীয়
ইউনিয়নে থাকার পক্ষপাতী নন। এই আবহে ইতালির পালা বদলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও এক সদস্য
হারায় কি না, সেদিকে নজর অনেকেরই।
প্রসঙ্গত,
ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দেশ। এদিকে ইউরো অঞ্চলে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির
দেশ ইতালি। তবে কোভিডের জেরে আপাতত ইতালির মাথার উপর দেশের জিডিপির ১৫০ শতাংশ সমতূল্য
ঋণের বোঝা রয়েছে।
এআর/