ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৯ নভেম্বর ২০২২ ১২:১৭
ছবি: সংগৃহীত
ফাইনালে
চোখ রেখে আজ (৯ নভেম্বর) দুপুর ২টায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান।
এবারের টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে অনেক নাটকীয়তার পর গ্রুপ-২ এর দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে
জায়গা পায় পাকিস্তান। এই টুর্নামেন্টের দুবারের ফাইনালিস্ট তারা। ২০০৭ সালে প্রথম
আসরে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হলেও ২০০৯ সালে দ্বিতীয় আসরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন
হয়েছিলেন পাকিস্তানিরা। তাদের সামনে তৃতীয়বার ফাইনালে খেলার হাতছানি। সুযোগটা ভালোভাবেই
কাজে লাগাতে চান বাবর আজমরা।
অন্যদিকে
বিশ্বকাপে এবার শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলা নিউজিল্যান্ড গ্রুপ-১ এ সেরা হয়েই শেষ চারের
টিকিট কাটে। গত আসরের ফাইনালিস্ট তারা। তবে ওই আসরে শিরোপার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে
হেরে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি ঘরে তুলতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। সেই ক্ষত মুছতে এবার পাকিস্তানকে
হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালের টিকিট কাটতে বদ্ধপরিকর কেন উইলিয়ামসনরা।
এ ম্যাচে
পাকিস্তানের অনুপ্রেরণা হতে পারে ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ওই আসরে অনেকটা খোঁড়াতে খোঁড়াতেই
সেমিফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান। টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে পড়তে ভাগ্যের সহায়তায় কোনো রকমে
শেষ চারে জায়গা পেয়ে কিউইদের ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠে বাজিমাত করেছিলেন ইমরান খানরা।
মঙ্গলবার
(৮ নভেম্বর) পাকিস্তানের অস্ট্রেলিয়ান কোচ ম্যাথু হেইডেন বলেন, ‘এটি (১৯৯২ বিশ্বকাপ)
সরাসরি প্রভাব ফেলছে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মিডিয়ার কল্যাণে ক্রিকেটভক্তদের
একটি অংশ, খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ, আমরা সবাই এই মিশনের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য বুঝতে
পারি। ‘৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য স্মরণীয় একটি আসর ছিল।’
তিনি আরো
বলেন, ‘ওই টুর্নামেন্টেও সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত পাকিস্তান দল ছিল অগোছালো। আহামরি
কোনো পারফরম্যান্স ছিল না তাদের। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে হঠাৎ করে ঘুরেই দাঁড়ায় পাকিস্তান।
তারা বিপজ্জনক এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের জন্য ওই আসরটিও ছিল এবারের টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের আসরের মতোই।’ হেইডেন যোগ করেন, ‘মূলত একজন ভক্ত এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার
হিসেবে আমি এতটুকু বলতে পারি, পাকিস্তান ক্রিকেটের পেস বোলিং আক্রমণ এবং ব্যাটিং লাইনআপে
আমাদের সত্যিই কিছু দেখার আছে।’
তিনি যোগ
করেন, ‘তবে নিউজিল্যান্ড কেন টুর্নামেন্টের সেরা দল ইতোমধ্যেই তারা তা প্রমাণ করেছে।
যদিও গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ হেরেছিল তারা। সব পজিশনে সামর্থ্যবান ক্রিকেটার
রয়েছে তাদের। কেন উইলিয়ামসনের মতো একজন সত্যিকারের শান্ত এবং ভদ্রলোকের নেতৃত্বে ক্রিকেট
খেলছে কিউইরা।’
ফাইনালে
কীভাবে যেতে হয় তা সাম্প্রতিককালে ভালোভাবেই জানে নিউজিল্যান্ড। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের
পর ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বাদে আইসিসির প্রতিটি টুর্নামেন্টের
ফাইনাল খেলেছে কিউইরা। ২০১৫ এবং ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেললেও দুর্ভাগ্যবশত
চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তারা। ২০২১ সালে প্রথম টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে আইসিসি
ট্রফি জয়ের খরা কাটিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
দলের অভিজ্ঞ
পেসার টিম সাউদি জানান, তাদের ভাবনায় আপাতত পাকিস্তান ম্যাচ। তিনি বলেন, ‘ওই পর্যায়ে
(ফাইনালে) যাওয়ার আগে আমাদের এখনো অনেক ক্রিকেট খেলতে হবে। পাকিস্তান মানসম্মত একটি
দল এবং বুধবার (আজ) তাদের টপকে যেতে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে আমাদের। সেমিফাইনাল
রোমাঞ্চকর ম্যাচ। এই ম্যাচের জন্য আপনি উন্মুখ থাকবেন, শেষ দুই ম্যাচে লড়াই করতে চাইবেন।
আশা করি, আমরা যেভাবে খেলছি সেভাবেই চালিয়ে যেতে পারব এবং সেমিতে আরেকটি ভালো পারফরম্যান্স
করতে পারব।’
পাকিস্তানকে
সমীহ করে সাউদি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান যে ভয়ংকর দল তা ভালো করেই জানা আছে আমাদের। শেষ
চারে জায়গা করে নেয়া সব দলেরই সুযোগ থাকে শিরোপা জেতার। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের
বিপক্ষে আমরা অনেক খেলেছি এবং আমরা জানি, তারা খুবই ভয়ানক দল। কৃতিত্ব তাদের দিতে হবে।
তারা সম্ভবত এটা ভেবে নিয়েছিল যে, তাদের খুব বেশি সুযোগ নেই। কিন্তু তারা আরেকটি ভালো
পারফরম্যান্স করেছে। সেমিফাইনালে তারা হবে বিশাল এক হুমকি।
টি-টোয়েন্টিতে
পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড ভালো নয়। এখন পর্যন্ত ২৮ মোকাবিলায় পাকিস্তান
জিতেছে ১৭ ম্যাচ আর নিউজিল্যান্ডের জয় ১১ ম্যাচে। আর বিশ্বকাপের ছয়বারের দেখায় পাকিস্তান
জিতেছে চার ম্যাচ ও নিউজিল্যান্ড দুই।
এফএম/