ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:০০
ছবি: সংগৃহীত
প্রেমে রাজি না হওয়ায় অপহরণের পর চার মাস আটকে রেখে চালানো হয় ধর্ষণ। একপর্যায়ে চোখ উপড়ে আহত অবস্থায় মেয়েটিকে ফেলে রেখে যায় তার বাড়ির সামনে। চিকিৎসার অভাবে সেই তরুণী সোমবার দুপুরে মারা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার নিজ বাড়িতে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয় বলে নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. ফরিদ আহমেদ জানান।
এদিকে, অপহরণের
পর ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে গত ৯ সেপ্টেম্বর মেয়েটির বাবা ময়মনসিংহ নারী ও শিশু
নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা করেন।
এলাকাবাসী
মোহাম্মদ হোসাইন (২২) নামে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে
বলা হয়, তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দেন উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের কচুরি গ্রামের মোহাম্মদ
হোসাইন। কিন্তু হোসাইনের প্রস্তাবে রাজি না হলে গত ১ জুন ১৪ বছর বয়সি মেয়েটিকে অপহরণ
করে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলায় আরও
অভিযোগ করা হয়, দুই মাস নারায়ণগঞ্জের একটি এলাকায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে
ডান চোখ ক্ষত করে দেওয়ার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর মেয়েটিকে বাড়ির পাশের সড়কে ফেলে যায় অপহরণকারী।
নিহতের বাবা
বলেন, আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মেয়েকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার আগারগাঁও চক্ষু হাসপাতালে
পাঠানোর কথা বলেন চিকিৎসকরা। ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে মেয়ের ডান চোখ বাঁচাতে কর্ণিয়া তুলে
ফেলা হয়। সেই কর্ণিয়া স্বজনরা ফ্রিজের মধ্যে রেখে দেন পরে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিস্থাপনের
জন্য। এ অবস্থায় তারা তাদের মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসেন। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে মেয়েটি
মারা যায়।
তিনি আরও
বলেন, আমার মেয়েটিকে নির্মমভাবে অত্যাচার করে হত্যা করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
হোসাইনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
নান্দাইল
মডেল থানার ওসি মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, ছাত্রীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।আগে যে মামলাটি হয়েছিল সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তর
হলে সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এসবি