ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৪৯
ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জ জেলা দলিল লেখক কার্যালয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় দলিল লেখকের লকার ভেঙে গ্রাহকের গচ্ছিত অর্ধশতাধিক জমির দলিল নিয়ে গেছে ডাকাত দল। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী
নিরাপত্তাকর্মী মোকসেদ আলী বলেন, ‘ডাকাতরা বাইরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে। ডাকাতরা মুখে
মুখোশ পরা ছিল এবং হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। এসময় আমার কাছে থাকা একটি মোবাইল ও ৪ হাজার
৩০০ টাকা নিয়ে নেয় ডাকাতরা। পরে বারান্দায় থাকা দলিল লেখকদের আলমারি ভেঙে দলিল নিয়ে
চলে যায়। আমাকে ভেতরের রুমে বন্দী করে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।’
দলিল লেখক
সমিতির নিজস্ব কোনো ভবন না থাকায় ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসকের ভবন সংলগ্ন একটি ভবনের
নিচতলা ভাড়া নেয় দলিল লেখক সমিতি। সেখানে শতাধিক দলিল লেখক একই ছাদের নিচে দলিল লেখাসহ
দলিল সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করেন।
সরেজমিনে
গিয়ে দেখা যায়, দলিল লেখক সমিতির ভবনে ঢুকতেই লোহার গেটর ডান ও বাম পাশে সহ-সভাপতি
বশির আহমেদ বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলীর ব্যবহৃত লকার দুটি ভাঙা। লকারে থাকা
কাগজপত্র দলিলাদি বিচ্ছিন্নভাবে এদিক-সেদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
ডাকাতির
ঘটনায় অর্ধশতাধিক দলিল খোয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
দলিল লেখক
সমিতির সহ-সভাপতি বশির আহমেদ বাবু বলেন, ‘এই লকারে কোনো টাকা-পয়সা বা স্বর্ণালঙ্কার
ছিল না। গ্রাহকের গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি ছিল। যারা এই ডাকাতির মাধ্যমে দলিলগুলো নিয়ে
গেছে তাদের কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আমার এবং গ্রাহকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। এটা
কোনো ডাকাতি না এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত।’
সংগঠনটির
সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, ‘ছয় মাসের ভিতর দুবার এরকম ডাকাতির ঘটনা ঘটল। প্রথমবার
কোনো দলিলাদি ডাকাতি হয়নি। শুধুমাত্র ব্যবহৃত কম্পিউটার খোয়া গেছে। কিন্তু এবার গ্রাহকের
দলিলাদি খোয়া যাওয়ায় গ্রাহকের কাছে কি জবাব দেব ভেবে পাচ্ছি না।’
সংগঠনটির
সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে অর্ধশতাধিক দলিল খোয়া গেছে বলে ধারণা
করা হচ্ছে। গ্রাহকরা দলিল নিতে এলে আর আসল দলিল পাবে না। পুনরায় সার্টিফাইড কপি অফিস
থেকে উত্তোলন করে দিতে হবে। মূল দলিল জমির মালিকের কাছে না থাকায় গ্রাহকরা ভোগান্তির
শিকার হবেন। অন্যথায় এই দলিলের দাতা এবং গ্রহীতা তাদের পুনরায় এসে সাব-রেজিস্টার
অফিসে জবানবন্দি দিয়ে নতুন দলিল তুলতে হবে। এতে করে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার
হবেন।’
এ ঘটনা সুষ্ঠু
তদন্ত এবং বিচার না হলে গ্রাহকরা আর দলিল লেখকদের ভরসা করতে পারবে না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে
জেলা সাব-রেজিস্ট্রার শেখ মোহাম্মদ মছিউল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
পুলিশ বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো কিছু হয়ে থাকলে সে বিষয়ে
কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আমানুল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা তদন্ত করছি। আমাদের আইনগত ব্যবস্থা চলমান আছে।’
/এসবি