ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৮:৪৯
ছবি: সংগৃহীত
প্রেস উইংয়ের নির্দেশে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক সজীব ঘোষ কে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা ও প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ তিন সাংবাদিককে চূড়ান্ত সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এছাড়াও অবিলম্বে সজীব ঘোষকে চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনের
সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন স্বাক্ষরিত এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে
আজ (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) এই দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত প্রতিবাদ
লিপিতে বলা হয়েছে, গতকাল দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের প্রতিবাদ লিপি
প্রকাশের কারণে অবৈধ ও অসাংবিধানিক অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের
অবৈধ প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নির্দেশে সাংবাদিক সজীব ঘোষ কে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত
করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে তাকে
চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সাংবাদিক সজীব ঘোষ দৈনিক
কালের কণ্ঠের একজন সাহসী ও প্রতিভাবান রিপোর্টার। গত কয়েক বছরে তিনি কালের কণ্ঠে যতগুলো
লিড রিপোর্ট করেছেন তা ঈর্ষণীয়। এমন একজন সাহসী ও নির্ভীক রিপোর্টারকে চাকরিচ্যুত করেছে
অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকারের দোসর দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ। সজীব ঘোষের
বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে যা সাংবাদিকতার নীতিমালা পরিপন্থী। সজিব ঘোষকে চাকরিচ্যুত
করা ছাড়াও আরো তিনজনকে চূড়ান্ত সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া হয়। এ তিনজন হলেন- বার্তা সম্পাদক
ফারুক মেহেদী, উপবার্তা সম্পাদক সফেদ ফরাজী ও চিফ রিপোর্টার মেহেদী হাসান।
এই অন্যায় সিদ্ধান্তের
মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের বাকস্বাধীনতাকে চরম ভাবে হরণ করা হয়েছে।
প্রতিবাদ
লিপিতে বলা হয়েছে, শফিকুল আলমের নির্দেশে বাংলা একাডেমী বই মেলায় বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ডাস্টবিন স্থাপন করে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে
চরম অসম্মান ও কটাক্ষ করার প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দেয়া একটি বিবৃতি থেকে রিপোর্ট
করে সজীব ঘোষ কালের কণ্ঠের অফিসে সেই নিউজ জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সম্পাদক কর্তৃক
সেই রিপোর্ট ছাপাও হয়েছিল। আমরা জানি, যেকোনো রিপোর্ট ছাপা না ছাপার সিদ্ধান্ত পত্রিকা
ম্যানেজমেন্টের। রিপোর্ট ছাপার বিষয়ে রিপোর্টারের কোনো ভূমিকাই নেই। কোন রিপোর্ট ছাপার
কারণে চাকরি গেলে প্রথমে চাকরি যাওয়ার কথা সম্পাদক হাসান হাফিজ ও নির্বাহী সম্পাদক
হায়দার আলীর। কিন্তু সম্পাদক পরিকল্পিত ভাবে নিজের দায় এড়ানোর জন্য শফিকুল আলমের নির্দেশে
চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে সৎ, সাহসী ও নির্ভীক সাংবাদিক সজীব ঘোষকে বলির পাঠা বানিয়েছেন।
প্রতিবাদ
লিপিতে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের রিপোর্ট ছাপার পর সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ
প্রথমে তার ফেসবুক আইডিতে এই পোস্ট দেয়। অবৈধ প্রেস সচিব শফিকুল আলম আবার হাসনাতের
সেই পোস্ট নিজের ফেইসবুক আইডিতে শেয়ার দিয়ে সমর্থন জানান। এরপরই শফিকুল আলম আবার কালের
কণ্ঠ অফিসে ফোন দিয়ে হুমকি দেয়া মাত্রই সজীবকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। হাসনাত
আব্দুল্লাহ এর আগেও সময় টিভিতে গিয়ে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করার চাপ দিয়ে বিতর্কিত
হয়েছিল। অবৈধ প্রেস সচিব এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ যেভাবে মিডিয়ার স্বাধীনতাকে চেপে ধরেছেন
সেটা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের
চরম পর্যায়। সারাদেশে এভাবেই একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির দোসর শফিকুল আলম গংরা অনেক
মিডিয়া হাউজ অবৈধভাবে দখল করে সাংবাদিকদেরকে হয়রানি, চাকুরিচ্যুত, গ্রেফতার, নির্যাতন
ও বাকস্বাধীনতা হরণ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের
মাধ্যমে দেশের স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোর টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে।
সচিবালয়
থেকে শুরু করে সকল অফিসে নারী সাংবাদিকদেরকেও প্রতিনিয়ত হেনস্তা করা হচ্ছে যা সংবিধানের
সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দাবি, অবিলম্বে সজীব ঘোষকে তার চাকরিতে পুনর্বহাল
করতে হবে। গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণ করার অপরাধে শফিকুল আলমকে অপসারণসহ
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। চাকরিচ্যুত সাংবাদিক সজীব ঘোষকে চাকরিতে পুনর্বহাল
করে কালের কণ্ঠের সম্পাদককে তার নিরপেক্ষতা
প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় খুব শীঘ্রই যমুনা ও কালের কণ্ঠের কার্যালয় ঘেরাওসহ
দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
/এসবি