নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৭ মে ২০২৩ ১১:৫৭
বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর
তীব্র দাবদাহে জনভোগান্তি বাড়লেও অতিরিক্ত তাপের কারণে দেশে লবণ উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। লবণ চাষের মৌসুম আরও কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে উৎপাদন ৬২ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বড় সাফল্য এনে দিয়েছেন কক্সবাজারের লবণচাষিরা।
সারা দেশের লবণ উৎপাদনের আগের রেকর্ড ছিল ১৮ লাখ ৩০ হাজার টন। এবার কক্সবাজার জেলা একাই এ রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। আবার সারা দেশে লবণের চাহিদা যেখানে ২৩ লাখ ৮৫ টন, সেখানে শুধু কক্সবাজার জেলাতেই এখন পর্যন্ত ২০ লাখ ১৯ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে।
বিসিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মৌসুমের সাড়ে ৪ মাসে জেলার ৬৪ হাজার ৪৬৬ একরের বেশি জমিতে লবণ চাষ করা হয়েছে। এতে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদিত হয়েছে ২০ লাখ ১৯ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে লবণ উৎপাদন হয়েছিল সাড়ে ১৭ হাজার টন।
রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদনে লবণচাষিদের মুখের হাসিও চওড়া হয়েছে। সাধারণত কোনো পণ্য বেশি উৎপাদিত হলে দাম কমে যায়। কিন্তু বর্তমানে ডাইং কারখানাগুলোতে লবণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এবার দাম উল্টো বেড়েছে। জানা গেছে, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সোডিয়াম সালফেটের পরিবর্তে এখন সোডিয়াল ক্লোরাইড (লবণ) ব্যবহার করছে ডায়িং কারখানাগুলো।
কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার উপকূলে প্রচণ্ড দাবদাহ চলছে। মাঠে জমানো সমুদ্রের লোনা পানি দ্রুত শুকিয়ে লবণ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৩০ টাকায়। ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে বেশ খুশি।
লবণকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবনের রূপরেখা তৈরি করার জন্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। শুষ্ক মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া বা অসময়ে বৃষ্টিপাত হলে ব্যাহত হয় লবণ উৎপাদন। তাই আরও আধুনিকায়ন করে লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্প্রসারণের লক্ষ্যে করা হচ্ছে গবেষণা ইনস্টিটিউট।
ইউএইচ/এইচআই