চেলসি ভেরোনিকা

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১৫ মে ২০২২ ০৩:৩৮



পরিবারের উৎপত্তি ও কাঠামো

চেলসি ভেরোনিকা, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১৫ মে ২০২২ ০৩:৩৮

পরিবারের উৎপত্তি ও কাঠামো

প্রতীকী ছবি

'পরিবার' শুরু হওয়ার ইতিহাস অনেকটা আপেক্ষিক; খুঁজে বের করার কাজটাও খানিকটা জটিল। পরিবারের উৎপত্তি সম্পর্কে চারপাশের সংস্কৃতি থেকে যে ধারণা পাওয়া যায়, তাতে পরিবারের বয়স কোটি বছরেরও বেশি।

জার্মান দার্শনিক ফ্রেডরিক এঙ্গেলস মনে করেন, পরিবার, ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং রাষ্ট্র মানবজীবনের চিরন্তন কোনো অংশ নয়। অর্থনীতির বিকাশের একটা পর্যায়ে গিয়ে এসবের উদ্ভব ঘটেছে এবং অর্থনীতির প্রয়োজনেই এগুলোর বিলুপ্তি কিংবা পরিবর্তন ঘটতে পারে।

ঊনবিংশ শতাব্দির মাঝামাঝি পশ্চিম ইউরোপে 'পরিবার' নিয়ে ইতিহাস ঘেঁটে দেখার সমাজতাত্ত্বিক আগ্রহ ছিল প্রবল। ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে পশ্চিমা বিশ্বে বাইবেলের লেখাকেই পরিবারের উৎপত্তি হিসেবে মানা হতো। বাইবেলের পারিবারিক রূপ এবং পিতৃতান্ত্রিক আদর্শিক অনুশাসনগুলো অনুসরণ করা হতো। যেমন- পরিবারে পুরুষ, নারী এবং শিশুদের ভূমিকা বাইবেল অনুসারেই নির্ধারণ করা হতো।

ঐতিহাসিকরা সাধারণত বিয়ে কিংবা রক্তের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে একটা আত্মীয়তা বর্ণনা করতে 'পরিবার' শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। উনিশ শতকের অধিকাংশ সমাজবিজ্ঞানীর মধ্যে এই বিশ্বাস ছিল যে, পরিবার গঠনে সাংস্কৃতিক বিবর্তনের একটি যোগসূত্র রয়েছে। সেই যোগসূত্রের একটি প্রাথমিক উদ্বেগ ছিলো বিয়ে ও পারিবারিক ব্যবস্থা।

পারিবারিক কাঠামোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নৃতাত্ত্বিক বিশ্বাস করেন, আনুমানিক সাড়ে চার হাজার বছর আগে একেকটি পরিবারের গড় সদস্য ছিল ৩০ জনের মতো। এদের মধ্যে কয়েকজন থাকতেন নেতার ভূমিকায়, যাদের সবাই পুরুষ। এসব নেতা শারীরিক সম্পর্কের জন্য পরিবারের নারীদের নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতেন। শিশুদের দায়িত্বও ভাগ করা থাকত। ওই সময় যেহেতু সমাজ ছিল শিকার ও কৃষিভিত্তিক, সেহেতু সমাজের জন্য স্থিতিশীল ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৩৫০ সালে মেসোপটেমিয়ায় প্রথম ‘নথিভুক্ত বিয়ের’ অনুষ্ঠানের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরবর্তী কয়েকশ বছর ধরে প্রাচীন হিব্রু, গ্রিক ও রোমানদের মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানের ব্যাপক চল ছিল।

রোমান নিয়মানুযায়ী, পিতা কর্তৃত্ববাদী ভূমিকা পালন করতো। এই কর্তৃত্বের অধীনে প্রাপ্তবয়স্ক শিশু থেকে দাস পর্যন্ত পরিবারের সবাই অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে উপপত্নীর মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশু বাবার সম্পত্তি বা নামের উত্তরাধিকারী হতে পারতেন না।

যেহেতু আগে সামাজিকভাবে নথিভুক্ত করে বিয়ের প্রচলন ছিল না, ফলে পরিবার বিষয়টি ব্যাপক জটিল ছিল। একজন পুরুষের এক বা একাধিক নারীর উপর কর্তৃত্ব থাকায় মনোমালিন্য কিংবা পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত। নথিভুক্তির মাধ্যমে বিয়ের প্রচলন পারিবারিক সম্পর্কের সংজ্ঞায় একটি সীমা টেনে দেয়। পরবর্তী সময়ে শিল্পায়নের ফলে পরিবার কাঠামোতে যে বিবর্তন আসে, তা বর্তমান আধুনিকায়নের পথে নিয়ে আসে। দেখা যায়, মানুষ শহরমুখী হওয়ায় ও শিল্প বাণিজ্যের বিস্তার ঘটায় অগণিত সংকটের দ্বার খুলে যায় এবং সংকট নিরসনে সমাধান করতে নতুন নতুন আইন হতে থাকে।

সূত্র- সোশিওলজি ডটকম, দ্য উইক

সিভি/এএল