কনটেন্ট ক্রিয়েটর, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৫ মে ২০২২ ০৩:৩০
পরিবারের প্রতীকী ইলাস্ট্রেশনটি এঁকেছেন বিষান ভক্ত
বিশ্ব পরিবার দিবস আজ। প্রতিবছর
১৫ মে দিবসটি পালন করা হয়। পরিবারের গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে দিবসটি
পালন করা হয়। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘পরিবার ও নগরায়ন’।
এবারের প্রতিপাদ্যের ব্যাখ্যায়
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জীবন ও পরিবারের কল্যাণকে বহুমাত্রিক রূপ দিতে নগরায়ন
একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসজিডি) অর্জনের ক্ষেত্রে
টেকসই নগরায়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র
‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ (এসজিডি)
গ্রহণ করে। টেকসই নগরায়নের মূল লক্ষ্য দরিদ্র্যতা দূরীকরণ, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা,
দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় বৈষম্য হ্রাস করাসহ নগর ও মানব বসতিগুলোকে নিরাপদ,
দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই করে তোলা ।
নগরায়ন কিভাবে নগরে বসবাসরত পরিবারের
কল্যাণকে ত্বরান্বিত ও পরিবারের সুযোগ-সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করে, সেসবের ওপর নজর রাখে
টেকসই উন্নয়ন। এ কারণে এবারের পরিবার দিবসে নগরায়নকে প্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবে হাজির
করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্যই হলো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবার নীতি ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব
সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।
১৯৯৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদ ‘১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস’ ঘোষণা
করে। এরপর ১৯৯৪ সালকে ‘আন্তর্জাতিক পরিবারবর্ষ’ ঘোষণা
করে জাতিসংঘ। শিল্প বিপ্লবের পর ইউরোপে পরিবারের ধরন ও ভূমিকা বদলাতে থাকে। সামাজিক
ও অর্থনৈতিক কারণে পিতৃতান্ত্রিক পারিবারিক ব্যবস্থা থেকে ক্রমশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক গণতান্ত্রিক
পরিবার বা যৌথ পরিবার ব্যবস্থা এবং এর থেকে একক বা নিউক্লিয়ার পরিবারে পরিণত হতে থাকে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, পরিবার সংক্রান্ত
যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে দিবসটি সচেতনতা বাড়ায়। পারিবারিক নীতিমালা হলো
জাতীয় নীতিমালার একটি প্রধান খুঁটি। ভবিষৎ প্রজন্মের ‘মানসম্মত’ জীবনযাপনে
প্রভাব ফেলতে এটি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে
পারিবারিক নীতিমালাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
পরিবারকে সমাজের মৌলিক ভিত্তি
হিসেবে গণ্য করা হয়। একটা শিশু সামাজিক আচার-আচরণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আনন্দ বেদনা,
সবকিছু ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্যদিয়ে দৃঢ় বন্ধনে
আবদ্ধ হওয়ার গুণাবলি শেখে পরিবার থেকে। সামাজিক ঐক্য ও পারস্পরিক নির্ভরতাই পরিবারের
মূল মন্ত্র। একজন পুরুষ ও একজন নারী বিয়ে কিংবা যেকোনো ধরনের লিখিত/অলিখিত সমঝোতার
মাধ্যমে যখন একটা সম্পর্কে আবদ্ধ হয়, মূলত তখন থেকেই একটা পরিবারের যাত্রা শুরু হয়।
সূত্র : ইউএন, বিবিসি
ইউএইচ/এএল