নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৮ মে ২০২৩ ১১:৫২
ছবি: সংগৃহিত
মরণব্যাধি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শুধু রোগীকে নয়, লড়াই করতে হয় রোগীর পুরো পরিবারকে। তবে যত দিন যাচ্ছে ক্যান্সার চিকিৎসায় নিত্যনতুন প্রযুক্তি আসছে। সে রকমই একটি আধুনিক চিকিৎসা করা হচ্ছে চেন্নাই অ্যাপোলো হাসপাতালে। নাম ‘প্রোটন বিম থেরাপি’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য রোগী ক্যান্সারের জন্য এই প্রোটন বিম থেরাপি নিতে আসছে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে। ক্যান্সারের এই প্রোটন বিম থেরাপি সম্পর্কে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হচ্ছে বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোরের আজকের প্রতিবেদনে-
প্রোটন থেরাপি বা প্রোটন বিম থেরাপি এক প্রকার রেডিয়েশন ট্রিটমেন্ট। তবে সাধারণ রেডিয়েশনের চেয়ে উচ্চমানের। এই থেরাপি দিয়ে টিউমার পুরোপুরি শিকড় থেকে নির্মূল করা সম্ভব। শুধু ক্যান্সার সেলেই এই থেরাপি নির্দিষ্ট করে প্রয়োগ করা সম্ভব। ফলে আক্রান্ত জায়গায় পুরো এনার্জি পৌঁছতে পারে এবং দ্রুত কাজ হয়। এই থেরাপি ক্যান্সার কোষের ডিএনএ পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়, সঙ্গে আশপাশে আরও হেলদি টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে। আর টিউমার কোষকে এমনভাবে নষ্ট করে যে তা পুনরায় নিজ থেকে তৈরি হয়ে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে না। ফলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে সাধারণ রেডিয়েশন হলো এক প্রকার এক্স-রে বা হাই এনার্জি বা মেগা ফোল্টেজ এক্সরে। ফলে এই উচ্চমাত্রায় রে যখন শরীরে প্রবেশ করে তখন ক্যান্সার সেলের সঙ্গে সারা শরীরে তার প্রভাব ফেলে। অন্য হেলদি অঙ্গ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু প্রোটন হলো পজিটিভ এনার্জি পার্টিকেলস। এই বৈশিষ্ট্য থাকার জন্য প্রোটন শরীরে প্রবেশ করার পর একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ক্যান্সার সেলের বাইরে অন্যান্য অঙ্গ তাই এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
দেখা গেছে, শিশুদের ক্যান্সার বা পেডিয়াট্রিক টিউমার, ব্রেন টিউমার, স্পাইন্যাল টিউমার, স্কাল টিউমারে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রোটন বিম থেরাপি সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে যে ধরনের ক্যান্সারগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে সেসব ক্ষেত্রেও প্রোটন থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। যেমন- প্রস্টেট ক্যান্সার, কিছু ধরনের স্তন ও ফুসফুস ক্যান্সার, হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, প্যাংক্রিয়াটিস ক্যান্সার, অ্যান্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার, সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার এমনকি কিছু ধরনের চোখের ক্যান্সারেও কার্যকর।
তবে যেহেতু এই প্রোটন থেরাপির জন্য খুব উচ্চমানের পরিকাঠামো দরকার, তাই প্রায় কোনো হাসপাতালেই এখনো এই চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর এই চিকিৎসার খরচও অনেক বেশি। তবে যখন সব চিকিৎসায় প্রায় নিরাশ করে, তখন প্রয়োজনে প্রোটন থেরাপির ট্রিটমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।
ইউএইচ/এইচআই