নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
৩১ মে ২০২৩ ০৪:৩৩
ছবি : সংগৃহীত
বর্ষাকাল শুরুর আগেই চলতি বছর মে মাস পর্যন্ত ডেংগুতে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭০৪ জন। আর এই সময়ে
মৃত্যুবরণ করছেন ১৩ জন। গত বছরের তুলনায়, এই বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ
বেশি। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে কোভিডের টিকা এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি
নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়া মৌসুমের আগেই ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় বিশেষভাবে সতর্ক ও সচেতন হওয়ার
আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি থেকে
এডিস মশার প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে স্বাস্থ্য
অধিদপ্তর বলছে, কয়েক প্রজাতির স্ত্রী এডিস
মশা ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক, যেগুলোর মধ্যে এডিস ইজিপ্টি প্রধান। এছাড়া বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ডেঙ্গু দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি ডেঙ্গু ও অন্যটি গুরুতর
ডেঙ্গু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুতে
আক্রান্ত হবার লক্ষণগুলো হলো, খুব জ্বর, তীব্র মাথা ধরা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি
আর হাড়ের গিঁটে ব্যথা করে। এছাড়া ব্রেক বোন ফিভার, বমি হওয়া বা ভাব হওয়া,
গ্ল্যান্ড ফোলা, র্যাশ উঠা। এছাড়া আক্রান্ত হওয়ার তিন থেকে সাত দিন পরও জটিলতা
দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে জ্বর কমলেও বিপদমুক্ত ভাবা যায়না। অন্যদিকে তীব্র
পেট ব্যথা, অবিরাম বমি, দ্রুত শ্বাস, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তক্ষরণ, অবসন্নতা,
অস্থিরতা, লিভার বড় হয়ে যাওয়া, বমি আর মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া গুরুতর ডেঙ্গুর লক্ষন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেংগু
প্রতিরোধে মশার আবাসস্থল ধ্বংস করে মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হবে। ফুলের টব, ডাবের
খোসা, ক্যান, গাড়ির টায়ার, এয়ারকুলার, গর্ত, ছাদ-সহ এমন জায়গায় আটকে থাকা যেন জমা
না থাকার পরামর্শও দেয়া হয়। আর মশক বৃদ্ধির স্থানে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি
ঘরের বাইরে গেলে হাত-পা ঢাকার মতো পোশাক পরতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পরিবারের
কেউ একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে অন্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারণ
আশপাশে স্ত্রী এডিস মশা থাকার সম্ভাবনা থাকে। আর ডেঙ্গু ছোঁয়াচে রোগ নয় বা এক
ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয় না বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জেডএস/