ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০১ জুলাই ২০২৩ ০৪:৪৫
ছবি : বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
পৃথিবীর
সঙ্গে চাঁদের সম্পর্ক সবসময়ই বিরাজমান। বিশ্বে এখনও পর্যন্ত যতগুলো সভ্যতা এসেছে তার
সবাই শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের ওপর ভিত্তি করে তাদের ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা তৈরি করেছেন।
কিছু তত্ত্ব মতে, চাঁদ এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে সাহায্য করেছে যার মাধ্যমে এ গ্রহে
জীবনের বিকাশকে সম্ভব করে তুলেছে এবং শুরুর দিকে চাঁদই পৃথিবীতে জীবন শুরু করতেও সাহায্য
করেছে। সবমিলিয়ে চাঁদ এখন পর্যন্ত মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে চলেছে। তবে সেই চাঁদ
পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
কোটি কোটি
বছর আগে পৃথিবীতে দিনের বেলার দৈর্ঘ্য গড়ে ১৩ ঘণ্টারও কম ছিল। তবে বর্তমানে এটি বাড়ছে।
কারণ মূলত চাঁদ ও পৃথিবীর মহাসাগরের মধ্যে সম্পর্ক। চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে সূক্ষ্মভাবে
ভারসাম্যপূর্ণ অ্যাস্ট্রো-ব্যালের মাধ্যমে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু নিজে কখনই ঘুরপাক
খায় না। আর এ কারণে মানুষ সব সময় চাঁদের একটি মাত্র পীঠই দেখতে পায়। মূলত ‘লুনার রিসেশন’ নামে এক প্রক্রিয়ার ফলে
চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
অ্যাপোলো
মিশনের মহাকাশচারীরা চাঁদের পীঠে যেসব রিফ্লেক্টার বা প্রতিফলক বসিয়েছিলেন তার ওপর
লেজার রশ্মি নিক্ষেপ করে বিজ্ঞানীরা পরিমাপ করে দেখেছেন, চাঁদ কত দ্রুত গতিতে পৃথিবীর
কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা নিশ্চিত করছেন, চাঁদ প্রতি বছর ১.৫ ইঞ্চি (৩.৮ সেমি)
হারে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে পৃথিবীতে দিনের দৈর্ঘ্য বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে চাঁদ ও পৃথিবীর
মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা অধ্যাপক ডেভিড ওয়ালথাম বলছেন, এসবই হচ্ছে জোয়ারের
জন্য। জোয়ারের টানের ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর হয়ে আসে এবং সেই শক্তিতে চাঁদে কৌণিক
ভরবেগ তৈরি হয়।
পৃথিবী তার
কক্ষপথে ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে একটু দূরে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সমুদ্রে জোয়ার ও ভাটার
সৃষ্টি করে। এই জোয়ার সমুদ্রের পানিকে ‘ফুলিয়ে’ দেয় যা উপবৃত্তের আকারে একবার চাঁদের অভিকর্ষের
দিকে এবং অন্যবার বিপরীত দিকে প্রসারিত হয়। তবে যেহেতু পৃথিবী তার অক্ষের ওপর চাঁদের
কক্ষপথের চেয়েও অনেক বেশি বেগে ঘুরছে, তাই চাঁদের নীচের সমুদ্রের অববাহিকাগুলোর সঙ্গে
ঘর্ষণের কারণে চাঁদ সেই জলকে টেনে ধরে রাখতে কাজ করে। ফলে সামান্য হলেও এটি পৃথিবীর
ঘূর্ণন শক্তিকে কমিয়ে দেয়। চাঁদের শক্তি অর্জনের সময় পৃথিবীর ঘূর্ণন আরও ধীর হয়ে
যায়। ফলে চাঁদ একটু ওপরের কক্ষপথে সরে আসে।
সর্বশেষ
বিশ্লেষণ বলছে, পৃথিবীর ঘূর্ণনের এই ক্রমবর্ধমান ধীরগতির অর্থ ১৬০০ শতকের শেষের দিক
থেকে পৃথিবীতে দিনের দৈর্ঘ্য প্রতি শতাব্দীতে গড়ে প্রায় ১.০৯ মিলি-সেকেন্ড হারে বেড়েছে।
এটি খুব বেশি বলে মনে না হলেও পৃথিবীর সাড়ে চারশো কোটি বছরের ইতিহাসে এটা এক গভীর পরিবর্তনকে
তুলে ধরে। সৌরজগতের জন্মের পরে প্রথম পাঁচ কোটি বছর পর বা তার কাছাকাছি সময়ে চাঁদ তৈরি
হয়েছিল বলে মনে করা হয়। তবে আজকের তুলনায় অতীতে চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি জায়গায়
ছিল।
বর্তমানে
চাঁদের অবস্থান পৃথিবী থেকে ৩,৮৪,০০০ কি.মি. দূরে। বর্তমানে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাওয়ার
হার এত উঁচু থাকার পরও, চাঁদ পৃথিবীকে সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে যাবে এমন সম্ভাবনা নেই। প্রায়
৫০০ কোটি থেকে ১০০০ কোটি বছরের মধ্যে সম্ভবত সূর্যের বিপর্যয়মূলক মৃত্যু ঘটবে। কিন্তু
তার অনেক আগেই সম্ভবত মানব সভ্যতা বিলীন হয়ে যাবে।
জেডএস/