ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৯ জুলাই ২০২৩ ০৬:৪৪
ছবি : সংগৃহীত
নন্দিত কথা
সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের না
থাকার ১১ বছর আজ। কিন্তু এত বছর না থেকেও যে কি প্রবলভাবে থাকা যায় তার উদাহরণ তিনি।
তার প্রিয়
ঋতু ছিল বর্ষা। তাইতো শ্রাবণের অঝোর মেঘের ধারা আর বর্ষায় চলে আসার কথা ফুটে উঠেছে
তার গানে ও লেখায়। তিনি উপন্যাসে লিখেছেন বর্ষার কদমফুলের কথা।
দেশে এত
এত টেলিভিশন, ওটিটির যুগেও ইউটিউবে মানুষ আজও খোঁজে হুমায়ূন আহমেদের পুরোনো নাটক। এখনো
বিক্রি হয় তার বই। এখনো তাঁকে নিয়ে আড্ডার টেবিলে আর ফেসবুকে চলে আলোচনা। কিন্তু বর্ষার
এই গল্পকথক ১১ বছর আগে নুহাশ পল্লীতে, মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিয়ে চিরতরে
ঘুমিয়ে যান।
তবে প্রস্থানের
আগে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন হুমায়ন আহমেদ। তার লেখনী আর নির্মাণে উঠে এসেছে
নৈসর্গিক দৃশ্য, জোছনা, বৃষ্টিসহ বাংলার চিরচেনা প্রকৃতির ব্যঞ্জনা।
তার হাত
ধরেই বাংলা সাহিত্য যেমন নতুন রূপ পেয়েছে, তেমনি উঠে এসেছে হিমু-মিসির আলির মতো অসংখ্য
জনপ্রিয় চরিত্র।
১৯৮৩ সালে
‘প্রথম প্রহর’ নাটক দিয়ে শুরু। দুই বছর পর ১৯৮৫ সালে ‘এইসব দিনরাত্রি’ ধারাবাহিক দিয়ে
সাফল্যের আকাশ স্পর্শ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তারপর শুধুই নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন।
একে একে প্রায় নব্বইটি একক নাটক পরিচালনা করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। এগুলোর বেশিরভাগই দর্শকের
মনে আজও জায়গা করে রেখেছে।
কাহিনিকার,
চিত্রনাট্যকার, গীতিকার আর পরিচালক হিসেবে বিভিন্ন বিভাগে তিনি মোট আটটি জাতীয় চলচ্চিত্র
পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া এই কথা সাহিত্যিকের ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে একুশে
পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা।
২০১২ সালের
এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে
ছিলেন। বাংলাদেশে তার ভক্ত-অনুরাগীরা কামনা করেছিলেন তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। কিন্তু
মানুষের সেই আকুতি পূরণ হয়নি। তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
আর তাকে
ছাড়াই চলে যায় ১১টি বর্ষা। বাংলার এই ঋতু এলেই আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সিংহাসনের এমন
রাজপুত্রের বিদায়ের বিষাদ ছুয়ে যায় ভক্তদের মনে। তাইতো মৃত্যুদিবসে নুহাশ পল্লীসহ দেশের
বিভিন্ন জায়গায় নানা আয়োজনে বাংলা সাহিত্যের এই জাদুকরকে স্মরণ করছেন ভক্তরা।
জেডএস/