নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২১ অক্টোবর ২০২২ ০২:০৬
র্যাবের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জন। ছবি: র্যাব
মাসে তিন লাখ টাকা ও খাবার খরচের বিনিময়ে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয় ‘কুকি-চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ (কেএনএফ)। গ্রেপ্তার হওয়া কেএনএফ-এর তিন সদস্যের বরাত দিয়ে র্যাব এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) বান্দরবান ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র সাত সদস্য ও পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএনএফ-এর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সৈয়দ মারুফ আহমদ মানিক (৩১), ইমরান হোসাইন সাওন (৩১), কাওসার শিশির (৪৬), জাহাঙ্গীর আহম্মেদ জনু (২৭), মো. ইব্রাহিম আলী (১৯), আবু বক্কর সিদ্দিক বাপ্পি (২৩), রুফু মিয়া (২৬), জৌথান স্যাং বম (১৯), স্টিফেন বম (১৯) এবং মাল সম বম (২০)।
তাদের কাছ থেকে ৯টি এসবিবিএল বন্দুক, ৫০ রাউন্ড গুলি, ৬২ কেস কার্তুজ, ছয়টি আইইডি (হাত বোমা), একটি দেশি পিস্তল, ওয়াকিটকি ও ‘প্রপোজড ম্যাপ অব কুকি-চীন স্টেট’ লেখা ১০টি মানচিত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার বান্দরবানে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, কেএনএফ প্রতিষ্ঠাতা নাথাং বমের সঙ্গে ২০২১ সালে ‘‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র আমিরের সম্পর্ক হয়। পরে পার্বত্য অঞ্চলের কেএনএফ’র ছত্রছায়ায় জামাতুল আনসারের সদস্যদের ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দিতে উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে তিন লাখ টাকা এবং কেএনএফ’র সদস্যদের খাবার খরচ বহন করা হতো।
গ্রেপ্তারদের
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে খন্দকার আল মঈন বলেন, হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি এবং আনসার আল
ইসলামের বেশ কিছু সদস্য ২০১৭ সালে নতুন একটি উগ্রবাদী সংগঠনের কাজ শুরু করে। এরপর ২০১৯ সালে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে কাজ চালাতে থাকে।
খন্দকার মঈন বলেন,
প্রথমে ভোলা ও পটুয়াখালীর চরে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সেখানে উত্তীর্ণ হলে তাদের প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হতো বান্দরবানের
দুর্গম পাহাড়ে। বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় তাদের
প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। তাদেরকে আগ্নেয়াস্ত্র চালানো, আইইডিসহ বিভিন্ন ধরনের বোমা তৈরি,
চোরাগুপ্তা হামলা, প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার বিভিন্ন কৌশলসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
র্যাবের
মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আগে ৩৮ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করি। আজ আমরা আরো ১৭ জনের নাম
ও পরিচয় প্রকাশ করছি। সব মিলিয়ে বাসা থেকে পলাতক ব্যাক্তির সংখ্যা এখন ৫৫ জন। এদের
সবাই হয়তো বান্দরবানেই আছে। তাদের গ্রেপ্তারে এই অভিযান চলমান থাকবে।’
কুকি-চীনের
বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এই সংগঠনটি নিয়ে আমরা আরো কাজ করবো। দেশের ভেতরে
থেকে কেউ দেশের বিরুদ্ধে কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এই সংগঠনটির বিষয়ে আরো
অনেক সংস্থা ও বাহিনী কাজ করছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এমন কোনো সংগঠনকে তাদের
কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না।’
এলআই/এআর/