শেষ পর্ব , ভীরু জমাদার

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৮ মার্চ ২০২৫ ০৯:৫০



আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছাড়া বাঁচানো যাবে না
কোমায় আছে বাংলাদেশের সত্য প্রকাশ

শেষ পর্ব , ভীরু জমাদার, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৮ মার্চ ২০২৫ ০৯:৫০

কোমায় আছে বাংলাদেশের সত্য প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

পর্ব-১ https://bengalnews24.com/news/37714

পর্ব-২ https://bengalnews24.com/news/37720

পর্যায়ে টেলিভিশন শোতে কথা বলাই বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তখন কী করে সাংবাদিক জানবে এই আন্দোলন কোটার আন্দোলন নয়?  কীভাবে সে সত্য এড়িয়ে যাবে? সেতো অ্যাকটিভিস্ট নয়। তাকে তো দুদিকের কথা ভাবতে হতো। সেই সত্য ভাবার অপরাধে আজ তারা ঘর ছেড়ে সে বাইরে বের হতে পারছেন না।

এখন কী হবে? বাংলাদেশের বেশিরভাগ সাংবাদিক না হয় অন্য পেশায় চলে গেলো। আচ্ছা না হয় ধরলাম পরিবার নিয়ে একে একে আত্মহত্যা করলো। তাতে কী কোন লাভ হবে? এই দমবন্ধ ইতিহাস একদিন ডালপালা মেলবেই। দেশে হাজারও বঞ্চনা তৈরি হয়েছে সন্দেহ নেই। কিন্ত তাতো বিশ্ববাসী জানছে না। বঞ্চনার চাপে চাপা পড়ছে সাংবাদিকরাও। কিন্তু সত্য প্রকাশের কথা  বলুন, আর মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থের কথা বলুন, সব ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের জন্যে আলাদা করে ভাবার দরকার ছিল। রক্ষা করার তালিকায় তাদের অগ্রাধিকার দেয়া দরকার ছিল। কারণ ঠিকঠাক তথ্য না পেলে কোন সভ্যতা তো বাঁচাতে পারার কথা নয়।

আবারও আসি গাজীপুর প্রসঙ্গে। সোস্যাল মিডিয়ায় দুই একজন রসিক নেটিজেনকে মন্তব্য করতে দেখলাম “শান্তিপূর্ণ আগুন ও ভাঙচুর উৎসবে কেন বাধা দেয়া হবে” বাংলাদেশের মানুষের অবাক হওয়ার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। গাজীপুরের ঘটনায় সেই বিষয়টি আরও প্রকাশ্য হয়েছে। পাঠক ভাবুন একদল লোক ডাকাতির মত অপরাধ করতে আসলো। তাদের বাধা দিল গ্রামের মানুষ। সেটা এমনই অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত হলো, যে তাদের গ্রেপ্তারের জন্যে তিন বাহিনী মিলিয়ে অপারেশন ডেভিল হান্ট ঘোষণা করতে হলো। পুলিশকে ক্ষমা চাইতে হলো। তাহলে এই হামলাকারীদের পক্ষে কারা কাজ করছে? নিশ্চয়ই গোটা সরকার। কারা মাঠে নামলো?  তাদের সবার সূত্র নিশ্চয়ই এক জায়গায়। প্রশ্ন হচ্ছে কত দিন ধরে তারা একত্র? কেন?  সত্য বাঁচাতে এরকম ক্রিটিকাল প্রশ্ন শুধু সাংবাদিকরাই করতে পারে। কিন্তু সেই সাংবাদিকরাইতো বাঁচে না।

আজ সংখ্যা লঘুদের নিয়ে আমাদের প্রতিবেশি দেশ অনেক তৎপর। এনিয়ে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু নীরবে নির্যাতিত হওয়া আরেক সংখ্যা লঘু গোষ্ঠী, সাংবাদিকদের জন্যে কার্যকর কথাটি কেউ বলছে না। কিছু লিখছে না, কিছু করাতো অনেক দূরের ব্যাপার। বাংলাদেশে ৫ই আগস্টের মিথ্যাচার নিয়ে ইদানিং কিছু কিছু কথা শুনি। সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা শুনি। কিন্তু সাংবাদিকদের নিপীড়নের কথা শুনি না। বিবিসি আল জাজিরার মত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এখন গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে বাংলাদেশে। তাদেরও কার্যকর কোন রিপোর্ট নেই। ভারতীয় সাংবাদিকরা বাংলাদেশ নিয়ে সর্বোচ্চ আগ্রহ প্রকাশ করলেও সাংবাদিকদের নিয়ে তাদের আলাদা কোন উদ্যোগ দেখি না।

তাই দেশে এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমার এই লেখার প্রত্যেকক পাঠককে বলি, বাংলাদেশ নামের দেশটিকে যদি পরিকল্পিত মৌলবাদের কবল থেকে বাঁচাতে চান, তাহলে এখানে কী হচ্ছে সেই তথ্য দরকার হবে আপনাদের। প্রকৃত তথ্য আপনাদের দিতে পারে সাংবাদিকরাই। কিন্তু তারা ভয়ে সিঁটিয়ে আছে, কাজ করতে পারছেন না। যে কারণে আপনারা পাননি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১৮৩ জন শ্রমিকের একসঙ্গে পুড়ে মরার তথ্য। গাজীপুরের ডাকাত প্রতিরোধের ঠিকঠাক তথ্যটিও পেলেন না। প্রধান দুই পত্রিকাকে ভয় দেখানোর জন্যে তাদের অফিসের সামনে গরু জবাই করে খাওয়ার তথ্যও বিশ্ববাসীর সামনে সেভাবে আনতে পারেনি তারা।

তাই এই দেশটাকে যদি বাঁচাতে হয় প্রথমেই বাঁচাতে হবে সাংবাদিকতা। কারণ তথ্যটা পেতে হবে। বিশ্ববাসীর কাছে অনুরোধ, আপনার বাংলাদেশের সম্প্রত উত্থিত মৌলবাদের বিপক্ষে সোচ্চার হোন। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নীপিড়নের গল্প জানান বিশ্ব মিডিয়ায়। আন্তর্জাতিক রাজা মহারাজাদের বলুন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বাঁচানো দরকার। যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন তারাও আমলে নিন। কিছু না পারুন লেখাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

/এসবি