ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:১৩
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ফুটবল
খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার সবার জন্য খেলাধুলা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে, বাংলাদেশ কোয়ালিফাই করতে
পারেনি। আমি আশা করি, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে এবং তোমাদের (ফুটবলারদের)
নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার
(ডিসেম্বর ২৯) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট
বালক অনূর্ধ্ব-১৭-২০২২ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল
টুর্নামেন্ট বালিকা অনূর্ধ্ব-১৭-২০২২ এর রানার্সআপ ও চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে ট্রফি এবং
পুরস্কার বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর
বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ফুটবল টুর্নামেন্টে
উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫২ জন ছেলেমেয়ের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ
করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি বিস্ময়কর ঘটনা। আমি মনে করি, বিশ্বে এমন আর কোনো
দেশ নেই যেখানে এত বিপুলসংখ্যক ফুটবলার এই ধরনের টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।’
প্রধানমন্ত্রী
আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার সরকার খেলাধুলায়
মানুষকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।
শেখ হাসিনা
বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমাদের প্রচেষ্টা ছিল আমাদের সন্তানদের ফুটবল,
ক্রিকেট এবং অন্যান্য খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করা। আমাদের শিশুরা যত বেশি খেলাধুলায়
নিজেকে নিয়োজিত রাখবে আমরা তত বেশি সুবিধা পাব।’
খেলাধুলার
সার্বিক উন্নয়নে তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন,
আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য খেলাধুলা নিশ্চিত করা।
শেখ হাসিনা
বলেন, ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪০ জন ছেলে এবং ৪০ জন মেয়েকে তাদের প্রতিভা বিকাশে
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) তিন মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং তাদের
মধ্যে কয়েকজনকে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন,
তার সরকারের প্রথম মেয়াদে ক্রিকেটে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা অর্জন করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, তারা ফুটবলের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছে এবং একই সঙ্গে নারীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত
করছে।
বঙ্গবন্ধু
ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তৃণমূলের মেধাবীদের
বের করে আনতে ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা প্রাথমিক
বিদ্যালয় থেকে উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন
করছে। তারা এমনকি বিশেষভাবে চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করেছে এবং
তারা অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে এনেছে।
দেশের প্রতিটি
উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম এবং প্রতিটি জেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি একাডেমি নির্মাণ
করা হচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ইতোমধ্যে ৫৬টি জেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তৃণমূলে
খেলাধুলা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সারা দেশে সুইমিং পুল, শুটিং রেঞ্জ, কাবাডি ও ভলিবল স্টেডিয়াম এবং স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করছেন
বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সেনাবাহিনী
প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয়
স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি
কাজী মো. সালাউদ্দিন অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে
যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেসবাহ উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
সূত্র: বাসস
এজে/এআর/এইচআই