নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৭ জুলাই ২০২২ ০১:০৮
ছবি: সংগৃহীত
আমাদের দেশে
যতগুলো ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় সেগুলোর জ্বালানি হিসেবে ডিজেল অথবা পেট্রোল ব্যবহার
করা হয়। জ্বালানি ভেদে ইঞ্জিনের নামকরণও করা হয়। যেমন ডিজেল দ্বারা চালিত ইঞ্জিনকে
বলা হয় ডিজেল ইঞ্জিন আর পেট্রোল দ্বারা ইঞ্জিনকে বলা হয় পেট্রোল ইঞ্জিন।
খনি থেকে
যখন জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হয় তখন তাকে ক্রিডওয়ার্ল্ড বলে। এই ক্রিডওয়ার্ল্ডকে রিফাইনারি
কোম্পানিগুলো বিভিন্ন ধাপে পরিশোধিত করে বিভিন্ন গ্রেডের তেল তৈরি করে। যদিও ডিজেল ও পেট্রোল উভয় হাইড্রোকার্বন মানে এখানে হাইড্রোজেন ও কার্বন রয়েছে।
কার্বন পরমাণুর
সংখ্যার উপর ওই জ্বালানি হতে উৎপাদিত শক্তির পরিমাণ নির্ভর করে। যে জ্বালানির কার্বন
পরমাণুর সংখ্যা যত বেশি, তার থেকে শক্তি উৎপাদন হবে ঠিক তত বেশি এবং সেই জ্বালানি দহনের
ক্ষমতা ইঞ্জিনের থাকতে হবে। ডিজেলের কার্বন পরমাণুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, এর পরবর্তীতে
আছে পেট্রোল।
পেট্রোল ও ডিজেল
১. ডিজেলের
একটি অণুতে ১২টি কাবর্ন পরমাণু থাকে। অন্যদিকে পেট্রোলের একটি অণুতে ৫ থেকে ১২টি কাবর্ন
পরমাণু থাকে।
২. ডিজেলের
বয়েলিং পয়েন্ট হচ্ছে ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে পেট্রোলের
বয়েলিং পয়েন্ট হচ্ছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৩. ডিজেল
ওয়েল পেট্রোল চেয়ে কম দাহ্য। অন্যদিকে পেট্রোল ডিজেলে থেকে বেশি দাহ্য হয়। মানে সহজেই
আগুন ধরে যায়।
৪. ডিজেল
ব্যাপক হাইড্রোকার্বন হওয়ার কারণে সহজে বাতাসের সাথে মিশে না। পেট্রোল হচ্ছে হাইলি
ভোলাটাইল (খুবই উদ্দায়ী) কোনো জায়গা রাখলে খুব সহজে বাতাসের সাথে মিশে যায়।
৫. ডিজেলের
প্রতি লিটারে ৩৮ দশমিক ৬ মেগাজুল শক্তি থাকে। পেট্রোল প্রতি লিটারে ৪৬ দশমিক ৭ মেগাজুল
শক্তি থাকে।
৬. ডিজেলের
ঘনত্ব পেট্রোলের তুলনায় অনেক বেশি। যার কারণে এক লিটার ডিজেল এক লিটার পেট্রোলের তুলনায়
অনেক ভারী হয়। পেট্রোলের ঘনত্ব ডিজেলের তুলনায় অনেক কম। তাই এটি ডিজেলের তুলনায় হালকা
হয়।
৭. এক লিটার
ডিজেলে ওজন প্রায় ৮৪০ গ্রাম। এবং এটি ২ দশমিক ৬৮ কেজি কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি করে।
অন্যদিকে এক লিটার পেট্রোলে ওজন প্রায় ৭৪০ গ্রাম। এবং এটি ২ দশমিক ৩১ কেজি কার্বন ডাই
অক্সাইড তৈরি করে।
৮. পেট্রোল
ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল ব্যবহার হয়। অন্যদিকে, ডিজেল ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে
ডিজেল ব্যবহার করা হয়।
৯. পেট্রোল
ইঞ্জিনে স্পার্ক করে ইগ্নিশন করা হয়। অন্যদিকে, ডিজেল ইঞ্জিনে কমপ্রেশন করে ইগনিশন
করা হয়।
১০. পেট্রোল
ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে। অন্যদিকে, ডিজেল ইঞ্জিনে কার্বুরেটরের স্থলে ইনজেক্টর থাকে।
১১. পেট্রোল
ইঞ্জিন অটো সাইকেলে কাজ করে। অন্যদিকে, ডিজেল ইঞ্জিন ডিজেল সাইকেলে কাজ করে।
অকটেন আসলে পেট্রোল
সব অকটেনই
আসলে পেট্রোল। প্রাকৃতিক ক্রুড অয়েল (কাদার মত খনিজ তেল) যখন ফ্রাকশনাল ডিসটিলেশন করা
হয় তখন ভিন্ন চাপ ও তাপমাত্রার জন্য এর আণবিক গঠন ভিন্নতর হয়। যার ফলে পেট্রোলেরও কয়েকটা
আলাদা গ্রেড থাকে যাকে ইউরোপিয়ান মানদণ্ডে ‘রন’ স্কেল দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। এই গ্রেডিং
এর নাম হলো অকটেন। অর্থাৎ আপনি যেই পেট্রোল কিনছেন সেটাও এক ধরনের অকটেন।
পেট্রোল
এর অনেক গুলো গ্রেড এর মধ্য হলো- অকটেন ৮৫, অকটেন ৮৭, অকটেন ৮৯, অকটেন ৯১, অকটেন ৯৩, অকটেন ৯৪, অকটেন ৯৫, অকটেন ৯৭, অকটেন ৯৮,
অকটেন ৯৯, অকটেন ১০১ থেকে অকটেন ১০৯।
এখন বলেন
তো আপনি বাজার থেকে যে অকটেন কিনেন সেটা এর মধ্য কোনটা? উচ্চ গ্রেডের পেট্রোল দ্রুত
এবং সম্পূর্ণ ভাবে পুড়ে। এটা হলো এর একমাত্র মৌলিক পার্থক্য।
বাংলাদেশের বাজারে অকটেন আর পেট্রোল এর পার্থক্য
বাজারে যে
পেট্রোল দেখেন সেটা আসলে অকটেন ৮৫ বা ৮৭ গ্রেডের পেট্রোল। ইউরোপে এগুলোকে বলা হয় লো
গ্রেড ফুয়েল। আপনি যে অকটেন দেখেন সেটা অকটেন ৮৯ থেকে অকটেন ৯৩ গ্রেডের পেট্রোল!
ইউরোপে এগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড গ্রেড ফুয়েল বলা হয়। ইউরোপে প্রিমিয়াম ফুয়েল অকটেন ৯৭ গ্রেড এর উপরের গ্রেডের পেট্রোল। যেটার দাম অনেক বেশি। যা আমাদের বাংলাদেশে পাওয়া যায় না।
এসএ/এসএল