ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১২ জুন ২০২৩ ০৮:০৩
ছবি : সংগৃহীত
কাইরান কাজী,
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সর্বকনিষ্ঠ এই প্রযুক্তিবিদ মার্কিন বিলিয়নিয়ার
ইলন মাস্কের মহাকাশবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ
দিয়েছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়স হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ
গ্র্যাজুয়েট হিসেবেও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন এই কিশোর।
ইলনের সংস্থায়
মজার কিন্তু অত্যন্ত জটিল ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সহজেই পার করেছেন কাইরান কাজী। মাত্র
১১ বছর বয়সে আমেরিকার সান্টা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং
পড়া শুরু করেছিলেন কাইরান। ২০২৩ সালে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পরপরই তিনি ইলন মাস্কের
প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ শুরু করবেন।
স্পেসএক্সে চাকরির বিষয়টি নিয়ে প্রবল উচ্ছ্বসিত কাইরান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘বিশ্বের
সবচেয়ে সেরা কম্পানির’ স্টারলিংক ইঞ্জিনিয়ারিং টিমে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি। স্পেসএক্স
সেই সব ‘বিরল’ কম্পানিগুলোর মধ্যে একটি যারা কিনা তার বয়সের মতো পুরোনো মানদণ্ড দিয়ে
তার সক্ষমতা ও পরিপক্বতা বিবেচনা করেনি। কাইরান ইন্টেল ল্যাবসতে একজন এআই রিসার্চ
কো-অপ ফেলো হিসেবে ইন্টার্নশিপ করে। কাইরানের আশা, মানুষের মঙ্গল অভিযানে নিজের বিদ্যা-বুদ্ধি
খাটিয়ে বিশেষ ছাপ রাখতে পারবেন।
মাত্র দুই
বছর বয়স থেকেই নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাতে শুরু করেন কাইরান। এদিকে কাইরানের বাবা-মা
জানিয়েছেন, ছোট থেকেই বিশ্বের নানা বিষয়ে কৌতূহল ছিল কাইরানের। মাত্র দুই বছর বয়সের
মধ্যেই পুরো বাক্যে কথা বলতে পারত কাইরান। ৯ বছর বয়সে তার মনে হলো স্কুলের পড়াশোনা
তাকে খুব একটা এগিয়ে নিচ্ছে না। তখন একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো হলো। এরপর কাইরানের
মা-বাবা ওই চিকিৎসক ও শিক্ষকরা সবাই একমত হলেন কাইরান উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত। অসাধারণ
প্রতিভার অধিকারী এই কিশোর তৃতীয় গ্রেডের পড়াশোনা বাদ দিয়ে এক লাফেই কমিউনিটি কলেজের
পড়াশোনায় চলে যায়।
কাইরানের
মা জুলিয়া চৌধুরী কাজী একজন ওয়াল স্ট্রিট এক্সিকিউটিভ এবং বাবা মুস্তাহিদ কাজী একজন
প্রকৌশলী। তিনি মানিকগঞ্জের ছেলে। তিনি জানিয়েছেন, অবসর সময়ে ঐতিহাসিক ঘটনার ছায়ায়
তৈরি কম্পিউটার গেম খেলতে ভালোবাসে কাইরান। বই পড়ার ক্ষেত্রে কল্পবিজ্ঞানের পোকা কাইরান।
তার প্রিয় লেখক ফিলিপ কে ডিক। সাংবাদিকদের মধ্যে তার প্রিয় অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ মাইকেল
লুইস।
জেডএস/এইচআই