ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৬ জুন ২০২৩ ০৬:০৭
ছবি : বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
নব্বই
দশকের পর থেকে আধুনিক সব প্রযুক্তির ব্যবহারে গড়ে উঠেছে আকাশছোঁয়া নজরকাড়া বিভিন্ন স্থাপত্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই
এসব স্থাপত্য স্ব-স্ব দেশের ক্ষমতা ও সম্পদের প্রদর্শন করে। মনোমুগ্ধকর এসব
স্থাপনার খরচের কথা শুনলে চোখ কপালে উঠবে সহজেই। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নির্মাণ,
এসব ভবনের পেছনে খরচ হয়েছে হাজার কোটি টাকার উপরে।
খরচের
হিসাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ খরচের
ভবনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে মক্কার ‘মসজিদ আল-হারাম’। ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ বর্গমিটার
স্থানজুড়ে অবস্থান করছে বিশাল এই মসজিদ। হজের সময় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ এখানে উপস্থিত
হন। সুপ্রাচীন এই মসজিদটির নির্মাণে খরচ হয় ১০০ বিলিয়ন ডলার।
খরচের
দিক থেকে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত ‘আবরাজ আল বায়িত টাওয়ার্স’ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। এটি
নির্মাণ করেছে সৌদি বিন লাদেন গ্রুপ। সরকারি মালিকানাধীন এই কমপ্লেক্সটি ৭টি আকাশছোঁয়া ভবনের সমন্বয়ে তৈরি। এতে রয়েছে পৃথিবীর
সবচেয়ে বড় ঘড়ি, যে কারণে এটি মক্কা রয়েল হোটেল ক্লক টাওয়ার নামেও পরিচিত। সুইস ও জার্মানিসহ
বিভিন্ন দেশের ২৫০ জন অভিজ্ঞ ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে এই ঘড়ি স্থাপন করতে সময়
লেগেছে ৮ বছর। ঘড়ির ভেতরে বিভিন্ন রঙের লেখাগুলো বসানো হয়েছে ১৪ হাজার কাচের টুকরোর
সমন্বয়ে। ১ হাজার ৯৭২ ফুট লম্বা ভবনটির নির্মাণে খরচ হয় ১৬ বিলিয়ন ডলার।
তালিকার তৃতীয় স্থান করে নিয়েছে সিঙ্গাপুরের
মেরিনা বে স্যান্ডস। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দামী রিসোর্ট ও ক্যাসিনোর একটি। মোট ৩টি ৫৫তলা
ভবন সমন্বয়ে এই রিসোর্টটি মেরিনা বে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত। এটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায়
৭ বিলিয়ন ডলার। রিসোর্টটিতে একটি ১৫০ মিটার ইনফিনিটি সুইমিং পুলসহ ২৫৬১টি বিলাসবহুল
রুম রয়েছে।
এই
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত অ্যাপল পার্ক । এটি হলো বিশ্ব বিখ্যাত অ্যাপেল কম্পানির
হেডকোয়ার্টার যেটি নির্মানে খরচ হয়েছে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৩ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৭
সালে। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ৮০ শতাংশ জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭ হাজার
গাছ লাগানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে থাকা প্রতিটি বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে আইফোনের হার্ডওয়ারগুলোর
সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে। ভূমিকম্প প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ভবনগুলোতে। অ্যাপল
পার্কে বর্তমান ১২ হাজারের বেশি কর্মচারী নিয়োজিত আছেন। কর্মচারীরা যাতে এক প্রান্ত
থেকে অন্য প্রান্তে সহজে যাতায়াত করতে পারেন এর জন্য এক হাজারের অধিক সাইকেল আছে সেখানে।
ক্যাপাসিটি ছোট-বড় সব মিলে সাতটি ক্যান্টিন রয়েছে। ভবনটির ডিজাইন করেন বিশ্ব বিখ্যাত
স্থাপতি নরমেন ফস্টার। ১৭৬ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় বিশাল আকারের ক্যাম্পাসটি।
তালিকার ৫ নম্বরে সিঙ্গাপুরের ‘রিসোর্ট ওয়ার্ল্ড
সেন্টোসা’। যেটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৫.৪ বিলিয়ন ডলার। চারটি হোটেল, ২টি ক্যাসিনো, থিম
পার্ক এবং ওয়াটার ওয়ার্ল্ড নিয়ে তৈরি হয়েছে এটি। ৪৯ হেক্টর জায়গা নিয়ে একটি দ্বীপে গড়ে
ওঠা এই হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে পঞ্চম স্থানে।
জেডএস/