ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৮ জুন ২০২৩ ০২:২৬
ছবি : বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
পৃথিবীর ছোট ও মধুর শব্দগুলোর মধ্যে বাবা ডাকটি
অন্যতম। বাবা মানে বিশ্বস্ততা, ভরসা, পরম আদর ও নির্ভরতার ছায়া। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা
জানাতে প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় বিশ্ব বাবা দিবস।
প্রতিবছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনে সন্তানরা উদযাপন করেন বাবার অবদান। তবে কীভাবে,
কোথা থেকে কিংবা কবে থেকে বাবা দিবসের সূচনা তা অনেকেরই অজানা। সেই সব তথ্য নিয়ে বেঙ্গল
নিউজ২৪ এর প্রতিবেদন।
১৯০৮ সাল। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার এক গির্জায় একটি স্মরণসভার
আয়োজন করা হয়েছিল। এর আগের বছরই একটি কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন ৩৬২ জন কয়লা শ্রমিক।
তাদের সম্মান জানাতে সন্তানরা মিলে এই প্রার্থনাসভার আয়োজন করেন। এটি ছিল বাবাকে সম্মান
জানাতে ইতিহাসের প্রথম আয়োজন।
পরের বছর ১৯০৯ সালে সনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী
বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠেন। সনোরার মা ছিল না। তাই তাদের সাত ভাইবোনকে
বড় করে তুলেছিলেন তাদের সিঙ্গেল বাবা। বাবার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হলো, বাবাকে সম্মান
জানানোর জন্য মা দিবসের মতো একটা বিশেষ দিন
থাকা দরকার। পরবর্তীতে অনেক চেষ্টা-চরিত্র করে দীর্ঘ এক বছরের সাধনায় স্থানীয় কমিউনিটিগুলোতে
বাবা দিবস পালন করতে পারেন ডড। ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বাবা
দিবস।
শুরুটা ওয়াশিংটনে হলেও ধীরে ধীরে এক রাজ্য থেকে
আরেক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এ দিবস। আস্তে আস্তে মা দিবসের পাশাপাশি বাবা দিবসের প্রতিও
সচেতন হতে থাকেন সন্তানরা। দীর্ঘ ছয় দশক পর মিলে বাবা দিবসের স্বীকৃতি। ১৯৭২ সালে তখনকার
আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিক্সন একটি আইনে স্বাক্ষর করে বাবা দিবসকে জাতীয় মর্যাদা দেন।
যদিও পৃথিবীর অনেক দেশে এটি ভিন্ন ভিন্ন দিনে পালন
করা হয়। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাবা দিবস হচ্ছে জুন মাসের
তৃতীয় রবিবার। দক্ষিণ আমেরিকায় এটি পালিত হয় ১৯ মার্চ। অস্ট্রেলিয়া ও ফিজিতে পালন করা
হয় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম রবিবার।
অনেক দেশে ঘটা করে বাবা দিবস উদযাপন করা হয়। দেশভেদে
উদযাপনে কিছুটা বৈচিত্র্যও দেখা যায়। বিশেষ এই দিনে সন্তানরা বাবাদের কোনো না কোনো
উপহার দিতে পছন্দ করেন। এ দিনটি বাবাকে বিশেষ বোধ করানোর
উপযুক্ত সময় মনে করেন অনেকে। দিনটিতে বাবার জন্য ছোট ছোট কিছু করে, তাকে বিশেষ মনে
করিয়ে দেওয়ারও, একটি উপলক্ষ হতে পারে। কারণ, পৃথিবীর সব ঝড়-ঝঞ্ছা থেকে আগলে রাখার
আপ্রাণ চেষ্টা করেন যে মানুষটি, তিনিই বাবা।
জেডএস/