শেখ সাদী খান

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৬ নভেম্বর ২০২৩ ১০:৩৮



কেন এমপি হতে চান মিলন পাঠান?

শেখ সাদী খান, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৬ নভেম্বর ২০২৩ ১০:৩৮

কেন এমপি হতে চান মিলন পাঠান?

ছবি: সংগৃহীত

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-০৭ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নুরুল আলম পাঠান মিলন। প্রচলিত গণসংযোগের বাইরেও নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলছেন। ইতোমধ্যে ‘ত্রিশাল হবে বিশাল’ স্লোগান দিয়ে বেশ সাড়া ফেলেছেন।

মিলন পাঠান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ২০১৩ সাল থেকে আওয়ামী লীগের উপ-কমিটিতে কাজ করছেন। ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে অভ্যর্থনা উপ-কমিটি, সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটি ও দফতর উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষক সমন্বয় উপ-কমিটি’র সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায়ের পরে সুধাসদনস্থ তৎকালীন সিআরআই-তে যোগদান করেন এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের ডাটাবেইজ টিমের সদস্য হিসেবে কাজে করছেন।

নুরুল আলম পাঠান মিলনের মনোনয়ন প্রত্যাশা ও পরিকল্পনার বিষয়ে বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোরের কথোপকথনের চিত্র তুলে ধরা হলো।

মানুষের পাশে থাকার বিষয়ে নুরুল আলম পাঠান মিলন বলেন, ত্রিশালের এমন একজন আওয়ামী লীগ নেতা পাবেন না, এমন একজন কর্মী পাবেন যার কাছে উপহার হিসেবে আমার দেওয়া একটি বই পৌঁছায়নি। ত্রিশালে বিভিন্ন পর্যায়ের অগণিত নেতাকর্মীদেরকে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের ইতিহাসের মূলধারা সম্পর্কিত বই উপহার দিয়েছি। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতেও দিয়েছি। উদ্দেশ্য একটাই ইতিহাস জানানো, মননশীলতা তৈরি। এটা গেলো দলের ক্ষেত্রে। এর বাইরের ত্রিশালের সকল স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, পাঠাগারেও অগণিত বই দিয়েছি। সকল স্তরের সাবেক ও বর্তমান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদের দিয়েছি। এটা ২০১৭ সাল থেকেই করে আসছি, অনেকটা নিয়মিত কর্মসূচির মতো। যার মাধ্যমে একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে নিজের ভিন্ন রাজনৈতিক সত্তা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি।


ছবি: সংগৃহীত 

নুরুল আলম পাঠান মিলন বলেন, জনপ্রতিনিধি না হলে সরাসরি উন্নয়নে ভূমিকা রাখা কঠিন। এখন তো সারাদেশ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। আমি ২০০৯ সালে আমাদের গ্রামে সম্ভবত সাত কিলোমিটার বিদ্যুতের জন্য রীতিমত যুদ্ধ করেছি, মন্ত্রণালয়, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এরকম সকল অফিসে। এবং কার্যোদ্ধারও হয়েছিল। এলজিইডির রাস্তা, জেলা পরিষদের রাস্তা, মসজিদ-মন্দিরের জন্য সরকারী বরাদ্দ, স্কুলের ভবন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি, ওয়াশ ব্লক, এরকম বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে উন্নয়নবান্ধব ও উন্নয়নমুখি মানুষ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। জনপ্রতিনিধি না হয়েও, স্থানীয় বা কেন্দ্রে দায়িত্বশীল নেতা না হয়েও; শুধুমাত্র মানুষের কল্যাণের জন্য এরকম ছোট-বড় উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত, নিজস্ব উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার জন্য শ্রম দেওয়া দ্বিতীয় কাউকে ত্রিশালে পাবেন কিনা সন্দেহ।

নুরুল আলম পাঠান মিলন আরও বলেন, এসব ছাড়াও চিকিৎসা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষের প্রতি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের চেষ্টা সবসময়ই করি। বঞ্চিত, অনগ্রসর ও নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকা আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মূল রাজনৈতিক দর্শনই এটা। এটা অনুসরণের চেষ্টা করি।

ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পথচলা সম্পর্কে নুরুল আলম পাঠান মিলন বলেন, নানান বাস্তবতায় দায়িত্বশীল পদের অধিকারী হতে পারিনি, কিন্তু রাজনীতি থেকে বিচ্যুত হইনি। এখন আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে কাজ করছি। আওয়ামী লীগ বৃহৎ একটা রাজনৈতিক দল, বিশাল বড় একটা রাজনৈতিক পরিবার, এই বড় সংগঠনের একজন ক্ষুদ্রতম কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করি।


ছবি: সংগৃহীত 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নেই, যার নিরাপত্তার জন্য আমাকে সংসদ সদস্য হতে হবে। আমার কোনো ব্যবসা নেই, যার প্রসারের জন্য ক্ষমতার প্রয়োজন। ফলে, আমি যেটুকু সুযোগ পাবো তার সবটুকুই জনকল্যাণে কাজে লাগানোই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে নুরুল আলম পাঠান মিলন বলেন, যে সংগঠন একটা দেশের জন্ম দিয়েছে, রাষ্ট্র জন্মের নেতৃত্ব দিয়েছে সেই সংগঠনের নতুন করে পরীক্ষা দেয়ার কিছু নাই যে তারা দেশপ্রেমিক। সেই সংগঠনের মাধ্যমেই দেশের মানুষের জন্য কল্যাণকর কিছু কাজের সুযোগ থাকে, আমি সেই সংগঠনের একজন কর্মী। অন্য দ্বিতীয় আর কোন দল নাই এরচেয়ে ভালো কিছু করতে পারে বা পারবে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সরকার ও দল হিসেবে যে অগ্রযাত্রা, এই অগ্রযাত্রায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সাহিত্য, কর্মকাণ্ড, ঘোষণাপত্র, নির্বাচনী ইশতেহার দেখলেও বুঝা যাবে আওয়ামী লীগ মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য কি করতে চায়। দেশের জন্য কল্যাণকর কিছু করতে হলে আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই সম্ভব এবং করা যাবে। আওয়ামী লীগ গণমানুষের জন্য কাজ করে। আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমিও এই অভিযাত্রা ও অগ্রযাত্রার সারথী।

ত্রিশাল নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়ে নুরুল আলম পাঠান মিলন বলেন, ত্রিশাল শিক্ষানগরী হবার পথে, ইতোমধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজ তো আছেই। ফলে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। ক্ষুদ্র শিল্প, বড় শিল্প ছাড়াও কৃষি-উৎপাদনমুখি ব্যবসার প্রসার ঘটেছে, ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; এটার দিকে এখন থেকেই আলাদা নজর রাখতে হবে। মানুষের মৌলিক চাহিদাসহ অনেক চাহিদাই বঙ্গবন্ধুকন্যা পূরণ করেছেন। সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুতায়নের ফলে সারাদেশ এখন হাতের মুঠোয়। মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাকে এগিয়ে নিতে, উন্নয়ন বাজেট সঠিকভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে গণমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। অনগ্রসর মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সর্বোপরি যা কিছু কল্যাণকর, যা কিছু আমাদের পূর্বপুরুষদের আরাধ্য ছিল, যা কিছু পরবর্তী প্রজন্মকে বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে; এরকম কর্মকাণ্ডের অংশীদার হতেই, এরকম স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতেই ত্রিশালের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।


ছবি: সংগৃহীত 

এসব স্বপ্ন ও কর্মোদ্যোগের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলার প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নুরুল আলম পাঠান মিলন বলেন, আমি রাজনীতিতে এসেছি প্রস্তুতি নিয়ে। রাজনীতি ছাড়া অন্যকিছু করার চিন্তা কখনও করি নি। ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ার পথে হাঁটি নি, হাঁটবোও না। জনগণ ও দল ছাড়া অন্য কোথাও আনুগত্য থাকতে পারে এরকম চাকরি বা ব্যবসা কিছুই করি না। ফলে আমার কোথাও কোনো দায়বদ্ধতা নেই, নেই কোনো বাধ্যবাধকতা। কেবল আওয়ামী লীগ ও জনগণের কাছেই আমার সকল দায়বদ্ধতা। একজন রাজনীতিবিদকে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হয়, নানান বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সংসদে আইন তৈরি করতে হয়। এজন্য একজন রাজনীতিককে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হয়। তবেই তার পক্ষে ন্যায়ভিত্তিক ও সুষমবণ্টনের মাধ্যমে সমাজের অগ্রগতির নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব। আমার ক্ষেত্রেও এটা সত্য।

জীবন ও সংসার, রাজনীতিতে যে টাকার প্রয়োজন তার সংস্থান হবে কিভাবে? এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নুরুল আলম পাঠান মিলন বলেন, এককালে আইনজীবীরা রাজনীতিতে বেশি সংখ্যায় ছিলেন, বেসরকারী প্র্যাক্টিশনার ডাক্তার ছিলেন, শিক্ষক ছিলেন; এরকম পেশার মানুষেরা ছিলেন। আবার জাতির পিতার মতো মানুষেরাও ছিলেন। মূলত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পেশাজীবী বা দলের বন্ধুভাবাপন্ন ব্যবসায়ী শুভাকাঙ্ক্ষীরা একধরনের অনুদান দেয়, তারা মনে করেন একজন খাঁটি রাজনীতিবিদের পক্ষেই দেশের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব, এজন্য তারা সহযোগিতা করেন। এভাবেই রাজনীতিকের জীবন ও রাজনীতি চলে যায়। আমার ক্ষেত্রে অবশ্য আরেকটু বাড়তি সুবিধা আছে। তা হলো, আমি পার্টির গবেষণাভিত্তিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এজন্য পার্টি আমাকে বেতন দেয়। আমার স্ত্রী কলেজে শিক্ষকতা করেন। ফলে আমার এরচেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না।


ছবি: সংগৃহীত 

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় করে কিছু নিজস্ব অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশিত পথে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘বিশাল ত্রিশাল’ গড়ার প্রত্যয়ে নুরুল আলম পাঠান মিলন তার কিছু কর্মপরিকল্পনার কথা বলেন, যেমন- সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভায় জাতীয় নীতি মেনে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে প্রয়োজনীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, কমিউনিটি পাঠাগার স্থাপন, সরকারী কবরস্থান নির্মাণ, প্রয়োজনীয় স্থানে শ্মশানঘাট নির্মাণ, খেলাধুলা ও বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা, স্থায়ী দলীয় কার্যালয় স্থাপন কর।

এছাড়া দারিদ্রসীমার নীচের জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা হেলথ কার্ড ও ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সকলের শিক্ষা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বিশেষ ক্যাটেগরিতে শিক্ষা ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের কাউন্সিলর/ মেম্বারদের অফিস স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, স্থানীয় সরকারের সকল স্তরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জামানত না হারিয়ে পরাজিত প্রার্থীদেরকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শতভাগ বিদ্যুতের পর শতভাগ ইন্টারনেট ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা, কৃষক ও কৃষিখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান, পরিকল্পিত বনায়ন ও শিল্পায়ন, নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশের নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান তৈরি করা, অনগ্রসর ব্যক্তি ও পরিবারকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া, সকল মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

নুরুল আলম পাঠান মিলন আরও বলেন, আমার ব্যক্তিগত সম্পদ, অতীতের মতোই বৃদ্ধি পাবে না। শেখ হাসিনার সংগ্রাম, শহর হবে ত্রিশালের সকল গ্রাম।

এসএসকে/এমএইচ