মৌলভীবাজার প্রতিনিধি, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৪:৩৭
ছবি : সংগৃহীত
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
৪ জন সহকারী শিক্ষকের বিদেশ চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে শিক্ষকের
অভাবে পাঠদান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা।
বিদেশ যাওয়া
৪ জন সহকারী শিক্ষক হলেন উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের মাইজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
শিক্ষক ইসরাত জাহান, মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান, বৃন্দাবনপুর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোরশেদুল ইসলাম ও সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুর্শেদা খাতুন। তাদের মধ্যে মুর্শেদা খাতুন কোথায় গেছেন জানা যায় নি। বাকি ৩ জন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।
অনুসন্ধানে
জানা যায়, মাইজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত জাহান চলতি বছরের
সেপ্টেম্বর মাসে চিকিৎসাজনিত ছুটি কাটিয়ে ৩ অক্টোবর থেকে আর স্কুলে আসেননি। পরে জানা যায়
তিনি যুক্তরাজ্য চলে গেছেন। মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান
গত ২২ জানুয়ারী স্কুলে যোগাদান করে মাত্র ১ দিন ক্লাস করান। এর পর ২৩ জানুয়ারি থেকে
আর স্কুলে আসেননি। বৃন্দাবনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোরশেদুল ইসলাম
সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখ থেকে বিদ্যালয়ে আর উপস্থিত হননি। পরে জানা যায় এই তিনজন যুক্তরাজ্যে
চলে গেছেন।
চৈতন্যগঞ্জ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুর্শেদা খাতুন ১২ অক্টোবরের ৫ দিন আগে তিনি চিকিৎসাজনিত
ছুটি কাটিয়েছেন ২ মাস। এরপর আর বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। তিনি কোন দেশে গেছেন জানা যায়নি।
মাইজগাঁও
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস খান, মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
প্রধান শিক্ষক হারুন মিয়া, বৃন্দাবনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজিয়া
বেগম ও চৈতন্যগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেন্দ্র কুমার সিংহ
বলেন, তারা কেউ আমাদেরকে কিছু বলেননি। কেউ ছুটি কাটিয়ে আর আসেননি আবার কেউ কিছু না
বলেই বিদ্যালয় থেকে চলে গেছেন। পরবর্তী সময়ে লোকমুখে শুনেছি তারা বিদেশে চলে গেছেন। বিষয়টি
অবগত হওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চিঠি দিয়েছি। তাদের পরিবর্তে
নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাবিবুর রহমান, ইসরাত জাহান, মোরশেদুল ইসলাম স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন। আর মুর্শেদা খাতুন কোথায় গেছেন জানা যায় নি। আবার দেশে এসে শিক্ষকতায় যোগদান করবেন কি না পরিবারের সদস্যরা জানেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, যারা ছুটি কাটিয়ে স্কুলে আসেননি বা না জানিয়ে কোথাও চলে গেছেন তাদেরকে আমরা নোটিশ পাঠিয়েছি। বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে যাওয়ার কোন অনুমতি নেই।
উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রফা করে এ অনৈতিক সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগের বিরুদ্ধে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয় সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথাবার্তা। এটা ঠিক না। যারা বিদেশ গিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। আমরা কাউকে এসব বিষয়ে ছাড় দেই না।’
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, ‘এ রকম ঘটনা গুলো শুধু এই অঞ্চলে হচ্ছে যা কখনও ভাবা যায়না। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। যারা এভাবে না বলে চলে গেছে তারা এ-ই কাজটি ঠিক করেনি। চাকুরী থেকে সেচ্ছায় অভ্যাহতি নিয়ে চলে যেতো পারতো। যারা দুই মাসের অধিক ছুটি কাটিয়ে বিদ্যালয়ে আসেনি আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। ’
জেডএস/