ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ০৬:৪০
ছবি: সংগৃহীত
বোতলজাত পানিতে উচ্চ মাত্রায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক প্লাস্টিকের কণা থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্যে ভয়াবহ ক্ষতিকর। খোলা বাজারে সয়লাব প্লাস্টিকের তৈরি এক লিটার (৩৩-আউন্স) পানির বোতলে গড়ে দুই লাখ ৪০ হাজার প্লাস্টিকের কণা থাকে। এই অতি ক্ষুদ্র ও সুক্ষ আণুবীক্ষণিক প্লাস্টিকের কণার মধ্যে অনেকগুলো শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। এমন সব তথ্য উঠে এসেছে নতুন গবেষণায়।
গবেষকরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিক দূষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো অনেকগুণ কমিয়ে দেখানো হয়।
ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস জার্নালে সোমবার (৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত সমীক্ষায় বলা হয়েছে, 'ন্যানোপ্লাস্টিক' দৈর্ঘ্যে এক মাইক্রোমিটারের নিচে এবং প্রস্থ মানুষের চুলের ৭০ ভাগের এক ভাগের সমান। বোতলজাত পানি নিয়ে আগেরকার যেসব গবেষণা হয়েছিল এই গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শত গুণ বেশি ধরা পড়েছে। কারণ আগেকার গবেষণায় এক মাইক্রোমিটার থেকে পাঁচ হাজার মাইক্রোমিটার দৈর্ঘ্যের প্লাস্টিক কণাকেই শুধু গণনা করা হতো। অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক কণাগুলোকে রাখা হতো হিসাবের বাইরে।
ন্যানোপ্লাস্টিক কণাগুলো মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার চেয়ে মানব স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা। কারণ ন্যানোপ্লাস্টিক কণাগুলো এতটাই ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক যে সেগুলো অনায়েসে দেহকোষে ঢুকে যায়, এমন কী রক্ত প্রবাহে মিশে যেতে পারে। এতে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে যায়। ন্যানোপ্লাস্টিক প্লাসেন্টারের (নাড়ী) মাধ্যমে জরায়ূতে অবস্থানরত শিশুর শরীরেও ঢুকে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে বোতলজাত পানিতে এসব কণার সরব উপস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা করেছিলেন। তবে অতি ক্ষুদ্র (ন্যানো পার্টিকেল) শনাক্ত করার প্রযুক্তির অভাব তা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। সেই বাঁধা অতিক্রম করতে এই গবেষণার সহ-গবেষকরা একটি নতুন মাইক্রোস্কোপি-টেকনিক (কৌশল) উদ্ভাবন করেছেন। এই ডাটা-চালিত অ্যালগরিদম প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ২৫টি এক লিটার বোতলের পানি নিয়ে গবেষণা করেন। তবে কোন ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি। তারা প্রতি লিটার বোতলজাত পানিতে এক লাখ ১০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন, যার মধ্যে ৯০ শতাংশই ন্যানোপ্লাস্টিক বা অতিক্ষুদ্র কণা।
এমএইচ/