ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৩ নভেম্বর ২০২২ ১১:০৭
ছবি: সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপ জ্বরে ডুবে আছে পুরো বিশ্ব। প্রথমবারের মত মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের
জমকালো আয়োজন করল কাতার। এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাতার নির্মাণ করেছে সাতটি নতুন স্টেডিয়াম।
এছাড়া আগের একটি স্টেডিয়ামসহ মোট আটটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপের
ম্যাচগুলো। জানা গেছে, আগত খেলোয়াড় ও বিদেশি দর্শকদের সুবিধার্থে স্টেডিয়ামে তাপমাত্রা
কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রতিটি স্টেডিয়ামে থাকছে সোলার প্যানেল ফার্ম।
চলুন আজ জেনে নেই কাতারের সেই ৮টি স্টেডিয়ামের
খুঁটিনাটি
লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম, লুসাইল
দোহা শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত
এই স্টেডিয়ামটি সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। আগামী ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত
হবে এ স্টেডিয়ামে। এছাড়া আরও ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে স্টেডিয়ামে। এ বছরই স্টেডিয়ামটি
উদ্বোধন করা হয়েছে। লুসাইল স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৮০ হাজার। সব ধরনের
অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে এ স্টেডিয়ামে।
খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম, দোহা
১৯৭৬ সালে নির্মিত খলিফা ইন্টারন্যাশনাল
স্টেডিয়াম ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের পূর্বে কাতারের একমাত্র স্টেডিয়াম ছিল। এ
স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণ ক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৪৫ হাজার। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ৮টি
ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এখানে। এর আগে এখানে এশিয়ান গেমস, গালফ কাপ, এএফসি এশিয়ান কাপ
ও বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২১ নভেম্বর এ মাঠে
ইরান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া গ্রুপ পর্বের আরও পাঁচটি
ও নক আউট পর্বে শেষ-১৬ এর একটি ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হবে।
আল-বায়াত স্টেডিয়াম, আল-খোর
দোহার শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত
আল-বায়াত স্টেডিয়াম। বেদুইনদের তাবুর আদলে এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা
হয়েছে। এ স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৬০ জাহার। গত ২০ নভেম্বর কাতার বনাম ইকুয়েডরের
উদ্বোধনী ম্যাচটি এ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া গ্রুপ পর্বের স্পেন বনাম জার্মানির
মধ্যকার হাই ভোল্টেজ ম্যাচটিসহ গ্রুপ পর্বের পাঁচটি, শেষ-১৬ এর একটি, কোয়ার্টার ফাইনালের
একটি ও দ্বিতীয় সেমিফাইনাল এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে।
আল-জানুব স্টেডিয়াম, আল-ওয়ারকাহ
কাতারের দক্ষিণাঞ্চলীয়
শহর আল-ওয়ারকাহতে এই স্টেডিয়ামটি অবস্থিত। এ স্টেদিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার।
কাতারের ঐতিহ্যবাহী বিশেষ নৌকার আদলে এ স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এটি নির্মাণের
সময় প্রবল বিতর্কিত হয়েছিল। কারণ অনেকেই অভিযোগ করেছিল এটি দেখতে নাকি নারীদের যৌনাঙ্গের
মতো। প্রবল সমালোচনা হলেও পরবর্তীতে এ নকশায় কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। এ স্টেডিয়ামে ফুটবল
বিশ্বকাপের মোট ৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
স্টেডিয়াম ৯৭৪, দোহা
প্রায় ৪০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ‘স্টেডিয়াম ৯৭৪’ নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন। ৯৭৪ সংখ্যাটি হোল কাতারের আন্তর্জাতিক ডায়াল কোড। এছাড়া ৯৭৪টি শিপিং কন্টেনার দিয়ে এই স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছে। এসব কারণেই এমন অদ্ভুত নামকরণ। বিশ্বকাপের মোট ৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে। জানা গেছে, বিশ্বকাপ শেষ হতেই ভেঙে ফেলা হবে স্টেডিয়াম।
এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম, আল-রাইয়ান
দোহার পশ্চিমাঞ্চলে
আল-রাইয়ান শহরের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে এই স্টেডিয়ামটি অবস্থিত। এ স্টেডিয়ামের
দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার। মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এ স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপের পর কাতারের নারী
দল এ স্টেডিয়াম ব্যবহার করবে। হিরার আদলে তৈরি বলে এ স্টেডিয়ামের নামকরণ
করা হয়েছে ‘মরুভূমির হিরে’। রোদে স্টেডিয়ামটি হিরার মত চকচক করে। আর রাতে জমকালো
আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রয়েছে।
আল-রাইয়ান স্টেডিয়াম বা আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়াম, আল-রাইয়ান
কাতারের ঘরোয়া ফুটবলের
অন্যতম সফল ক্লাব আল-রাইয়ানের হোম ভেন্যু এই আহমাদ বিন আলি স্টেডিয়াম। পুরনো ভেন্যুর
ঠিক পাশেই নতুন করে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্টেডিয়ামে ৪০ হাজার দর্শক বসে খেলা দেখতে পারবেন। মোট ৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত
হবে এখানে।
আল থুমামা স্টেডিয়াম, দোহা
দোহার দক্ষিণে হামাদ
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি।
এই স্টেডিয়ামটি দেখতে টুপির মতো। মধ্যপ্রাচ্যের
নারীদের একটি বিশেষ টুপি (গাফিয়া)র আদলে তৈরি করা হয়েছে এই স্টেডিয়াম। এখানে মোট
৮টি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এ স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার।
এসবি/এআর