ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৩ নভেম্বর ২০২৪ ০৩:৪৭
ছবিঃ সংগৃহীত
যেসব পরিবার নিজ দেশ ছেড়ে অন্য কোনও দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা করছেন তাদের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়- কোন দেশটি তার সন্তানকে লালন পালনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হবে?
সম্প্রতি
ইউনিসেফ বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও বসবাসযোগ্য দেশগুলোর র্যাঙ্কিং করেছে। এ র্যাঙ্কিং
দেশগুলোর গড় আয় বা আর্থিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে করা হয়নি। বরং শিশুদের স্বাস্থ্য,
মানসিক প্রশান্তি, শিক্ষার গুণগত মান, পারিবারিক ছুটির নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এমনকি কোন দেশগুলোয় সবুজের সমারোহ এবং শিশুদের জন্য যথেষ্ট খেলার মাঠ রয়েছে তাও বিবেচনা
করা হয়েছে।
চলুন জেনে
নেই দেশগুলো সম্পর্কে-
জাপান
ইউনিসেফের
২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের সুস্থতার বিষয়ে জাপান প্রথম স্থানে রয়েছে। দেশটি
শিশু মৃত্যু ঠেকানো এবং জীবনের প্রথম দিকে স্থূলতা প্রতিরোধ করার দিকে নজর দেয়। জাপানে
শৈশবে স্থূলতার হার সবচেয়ে কম। এর পাশাপাশি, শিশুমৃত্যুর হার কম, বায়ু ও পানি দূষণের
মাত্রাও (যা শিশুদের প্রভাবিত করে) কম।
এখানে ট্র্যাফিক
দুর্ঘটনা যেমন কম ঘটে, তেমনি যেকোনও দেশের তুলনায় জাপানে খুনের হার সবচেয়ে কম, প্রতি
লাখে মাত্র দশমিক দুই জন মানুষ। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার পাঁচ দশমিক তিন শতাংশ,
কানাডায় এক দশমিক আট শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় দশমিক আট শতাংশ।
স্বাস্থ্য
এবং নিরাপত্তা ছাড়াও, জাপানে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ইউনিসেফের
উন্নয়ন সহযোগী ওইসিডি’র তথ্য অনুসারে, এর শিক্ষা ব্যবস্থা ৭৬টি দেশ এবং অঞ্চলগুলির
মধ্যে ১২তম স্থানে রয়েছে।
কর্মজীবী
পিতামাতা ১২ মাসের মধ্যে যে কোনও সময় প্যারেন্টাল লিভ বা বেতনভুক্ত ছুটি নিতে পারেন
এবং এই ছুটি কাটানোর জন্য তাদের কোনও বেতন কাটা হয় না।
এস্তোনিয়া
ইউনিসেফের
সার্বিক র্যাঙ্কিংয়ে এস্তোনিয়ার অবস্থান খুব একটা ওপরে নয়, তবে দেশটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ
দিকে বেশ ভালো পারফর্ম করছে। অন্যান্য ধনী দেশের তুলনায় এখানকার শিশুরা কম বায়ু
ও শব্দ দূষণ এবং কীটনাশকের সংস্পর্শে আসে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রেট ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার
চেয়ে এস্তোনিয়ায় বেশি সবুজ স্থান রয়েছে। শিশুরাও বাড়ির কাছাকাছি খেলার মাঠ এবং অন্যান্য
বিনোদনমূলক সুবিধা উপভোগ করতে পারে।
এস্তোনিয়ায়
কম ওজন নিয়ে শিশু জন্ম নেয়ার হার বিশ্বের দ্বিতীয়-সর্বনিম্ন এবং প্রসূতি মায়ের প্রসবপূর্ব
যত্নের গুণমানেও দেশটি বেশ এগিয়ে।
এস্তোনিয়ায়
নারীরা ১০০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতে পারেন এবং পুরুষরা ৩০ দিনের পিতৃত্বকালীন
ছুটি পেতে পারেন। পরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তারা বেতনসহ আরও ৪৭৫ দিনের ছুটি পেতে পারেন।
এই ছুটি বাবা মায়েদের নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া বা নিজের সুবিধা বুঝে খণ্ডকালীন
ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। শিশুর বয়স তিন বছর না হওয়া পর্যন্ত এই ছুটি নেওয়ার সুযোগ
রয়েছে। ৬০ দিন পর্যন্ত বাবা-মা দুজনই বাড়িতে থাকতে পারেন এবং কোম্পানির কাছ থেকে টাকা
পেতে পারেন। সন্তান ১৪ বছর না হওয়া পর্যন্ত বাবা-মা দুজনই ১০টি অতিরিক্ত ছুটি পান।
(এই ছুটিগুলি বিদেশিসহ এস্তোনিয়ার অস্থায়ী এবং স্থায়ী দুই ধরনের বাসিন্দারাই পাবেন)।
স্পেন
শিশুমৃত্যুর
হার এবং দূষণজনিত অসুস্থতার হার অনেক কম হওয়ায় স্পেনকে ইউনিসেফের র্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ
রেট দেওয়া হয়েছে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে দেশটি তৃতীয় এবং মৌলিক সাক্ষরতা
ও সামাজিক দক্ষতায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
ইউনিসেফের
মতে, সামাজিক, শিক্ষাগত এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় সামগ্রিকভাবে কম পারফরম্যান্স সত্ত্বেও,
স্পেনের শিশুদের সুস্থতার হার অনেক বেশি। অন্যান্য ধনী দেশের তুলনায় স্পেনে প্রাপ্তবয়স্কদের
আত্মহত্যার হার কম। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের তুলনায় দেশটিতে
আত্মহত্যার হার এক-তৃতীয়াংশ কম।
প্যারেন্টাল
লিভ বা ছুটির জন্য, মা ও বাবা দু'জন এমনকি তারা ফ্রিল্যান্সার হলেও শতভাগ বেতনসহ ১৬
সপ্তাহ ছুটি পান। প্রত্যেক মা তিন বছরের আনপেইড লিভ বা অবৈতনিক ছুটি নিতে পারেন বা
তারা তাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনতে পারেন। স্পেনের যেসব বাসিন্দাদের সামাজিক নিরাপত্তা
ব্যবস্থার (সোশ্যাল সিকিউরিটি) নিবন্ধন আছেন তারা সবাই এই সুবিধা পেতে পারেন, তবে শর্ত
থাকে যে তারা গত সাত বছরে কমপক্ষে ১৮০ দিনের বকেয়া পরিশোধ করেছেন।
ফিনল্যান্ড
ইউনিসেফের
র্যাঙ্কিংয়ে ফিনল্যান্ডের অবস্থান পঞ্চম। দেশটি তিনটি বিভাগের মধ্যে দু'টিতে বেশ
ভালো স্কোর করেছে। শিশু সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরিবেশের জন্য প্রথম স্থানে
রয়েছে ফিনল্যান্ড (যেমন- বায়ুর গুণমান)। শিশুদের চারপাশের পরিবেশের ক্ষেত্রে (যেমন
- স্কুল, ট্রাফিক পরিস্থিতি এবং সবুজ স্থান) দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
শিশুদের
একাডেমিক এবং গণিতের দক্ষতার ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ড শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি।
পাঁচ থেকে
১৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অর্ধেক।
মাতৃত্বকালীন
ছুটির ক্ষেত্রেও ফিনল্যান্ড বেশ উদারনীতি মেনে চলে। মায়েরা আট সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন
ছুটি পান। এছাড়া মা ও বাবা একসাথে ১৪ মাসের বেতনভুক্ত ছুটি পান। অর্থাৎ এই ছুটি বাবা-মা
ভাগ করে কাটাতে পারবেন। শিশুর বয়স তিন বছর না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত ছুটির কাটানোর
ব্যাপারে আবেদন করা যেতে পারে।
নেদারল্যান্ডস
শিশুদের
সুস্থতার জন্য ইউনিসেফের সামগ্রিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। শিশুদের মানসিক
স্বাস্থ্যে প্রথম এবং তাদের দক্ষতা বিকাশে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশটি।
সেখানে ১৫
বছর বয়সী ১০ জনের মধ্যে নয়জন তাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট। ইউনিসেফের মতে, এটাই সর্বোচ্চ
হার। ১০ জনের আট জন শিশু বলেছে যে তাদের পক্ষে বন্ধুত্ব করা সহজ।
দেশটিতে
শিশুদের সামাজিকীকরণের দিকেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয় যেখানে দল, ক্লাব এবং যৌথ কার্যক্রম
খুব সাধারণ। শিশুর বয়স আট বছর না হওয়া পর্যন্ত বিনা বেতনে ছুটি নেওয়া যেতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
/এসবি