ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১১ ডিসেম্বর ২০২৪ ০১:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া কারাগারে ১১ই নভেম্বরের পর থেকে গত এক মাসে আটক থাকা অবস্থায় অন্তত চার জন আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন। 'নাশকতা' কিংবা 'হত্যা মামলার' আসামী হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছিলো।
বিবিসি বলছে, কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য
মতে হার্ট অ্যাটাক কিংবা অন্য অসুস্থতায় আসামীদের মৃত্যু হয়েছে বললেও নিহতদের একজনের
সন্তান বলেছেন তার বাবা কখনোই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন না এবং কারাগারে যখন তারা সাক্ষাৎ
করতে গিয়েছিলেন তখনও কোন অসুস্থতার কথা তার বাবা তাদের জানাননি।
কারাগারে আটক অবস্থায় মারা যাওয়া আরও দুজনের
পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেলা সুপার ফারুক
আহমেদ বলছেন, যারা মারা গেছেন তারা বয়স্ক এবং তারা কারাগারে আসার আগে থেকেই অসুস্থ
ছিলেন। তাদের স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে। কারাগারে তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবহেলা হয়নি।
কেউ ডায়াবেটিস,কেউ হৃদরোগ কিংবা কেউ প্রেশারের রোগী ছিলেন আগে থেকেই। রাজনৈতিক নেতা
হওয়ায় হয়তো মানসিক চাপ বা হতাশায় অসুস্থতা বেড়ে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। আমরা
সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়েছি।
তবে আওয়ামী লীগ বলছে,এগুলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ
মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন।
তার দাবি এসব হামলা 'পরিকল্পিত'।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের
চেয়ারম্যান জেড আই খান পান্না বলছেন কারাগারে হোক আর পুলিশ হেফাজতে হোক- একজন আটক ব্যক্তি
যখন মারা যান, তখন তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
বগুড়া কারাগারে আটক আওয়ামী লীগ নেতাদের
মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে সবশেষ সোমবার মারা গেছেন জেলার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিঠু। তিনি তার দলের ইউনিয়ন কমিটির সহ-সভাপতি
ছিলেন।
এর আগে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের
কোষাধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ, বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম
রতন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত আলম ঝুনুও আটক থাকা অবস্থায় অসুস্থ
হয়ে মারা গেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ই অগাস্টের পর থেকে ঢাকাসহ
সারাদেশে আওয়ামী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কিংবা আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন এমন বহু
মানুষকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য
থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বহু নেতা, কর্মী ও সমর্থককে
'নাশকতা' কিংবা 'হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে, যাদের অনেককে এর মধ্যে গ্রেফতারও করা
হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
/এসবি