নিজস্ব প্রতিবেদক

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৯ মে ২০২৩ ০৭:১৪



ট্রেকিংয়ের পূর্বে যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৯ মে ২০২৩ ০৭:১৪

ট্রেকিংয়ের পূর্বে যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছে ট্রেকিং বেশ জনপ্রিয়। পাহাড়ি জনপদ, ঝিরিপথ, নিরিবিলি ট্রেইল বা ঝরনার সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা ছুটে যান ট্রেকিংয়ে। কখনো ঝরনার সন্ধানে দুর্গম পাহাড় বেয়ে ওঠা কিংবা গহীন বন জঙ্গল মাড়িয়ে কাদা মাখা ঢালু রাস্তা ধরে এগিয়ে চলা, আবার কখনো ঝরনা ধারার পিচ্ছিল পথে হাঁটা। এক কথায় বলতে গেলে ট্রেকিং দুঃসাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান। তবে যারা ট্রেকিং করতে যাচ্ছেন, তাদের সাহস আর ইচ্ছার পাশাপাশি পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রেকিংয়ের পূর্ব প্রস্তুতি কেন প্রয়োজন?

ট্রেকিং কয়েক ঘণ্টারও হতে পারে, আবার কয়েক দিনেরও হতে পারে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না নিলে আপনার অ্যাডভেঞ্চারে বাধা আসতে পারে যেকোনো সময় আর সামান্য অসতর্কতায় ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনাও। তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিন এবং মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করুন।

চলুন তাহলে জেনে নেই একজন ট্রেকার হিসেবে ট্রেকিংয়ের পূর্বে নিজেকে যেভাবে প্রস্তুত রাখা উচিত-

শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি: ট্রেকিংয়ে যাওয়ার পূর্বশর্ত হলো শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ থাকা। যেহেতু ট্রেকিংয়ে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ চলতে হবে সে জন্য হার্ট আর ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো না হলে পথিমধ্যে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারও যদি ঠাণ্ডা বা উচ্চতায় সমস্যা থাকে তাহলে আগে থেকেই ডাক্তারের সঙ্গে আলাপ করে নিন।

এ ছাড়া ট্রেকিংয়ের জন্য মনস্থির করলে অন্তত মাস দুয়েক আগে থেকে হাঁটাহাঁটির অভ্যাস করুন। সেই সঙ্গে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করে শরীরকে জড়তামুক্ত করে নিন। পায়ের শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা জরুরি। এসবের সঙ্গে মানসিকভাবেও প্রস্তুতি নিতে হবে। উচ্চতায় ট্রেকিং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে শতভাগ প্রস্তুত করতে হবে।

তবে যারা কোনো দিন ব্যায়াম করেননি, তাদের ক্ষেত্রে শারীরিক প্রস্তুতির পর্বটা একটু কঠিন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি ফিট না হয়ে ট্রেকিংয়ে গেলে আপনার সঙ্গে টিমের বাকিরাও ঝামেলায় পড়তে পারে। তাই আগে থেকেই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

আর যাদের উচ্চতা ভীতি, অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট, অ্যানিমিয়া, জয়েন্ট পেইন, লো প্রেশার এই ধরনের সমস্যা আছে তারা পাহাড়ে ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে আলাপ করে নিবেন। 

সঠিক ট্রেইল নির্বাচন: ট্র্যাকিং ট্রেইলগুলো বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। কোনোটা ৩ থেকে ৪ দিনব্যাপী, কোনোটা দুই সপ্তাহব্যাপী আবার কোনো ট্রেইলের ব্যাপ্তি এক মাসেরও বেশি হয়ে থাকে। তবে কোন ট্রেক আপনার জন্য উপযুক্ত সেটি নির্ভর করবে শারীরিক সক্ষমতা, সময় এবং দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার মন-মানসিকতার ওপর। কাজেই ট্রেইল নির্বাচনের আগে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। না হলে ভ্রমণের আনন্দ ফিকে হয়ে যেতে পারে।

ট্র্যাকিং ব্যাকপ্যাক নির্বাচন: ট্রেকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো ব্যাকপ্যাক। ব্যাকপ্যাক ছাড়া ট্রেকিংয়ের প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ। ট্রেকিংয়ের পূর্বে যারা ব্যাগ কেনার কথা ভাবছেন তারা অবশ্যই ব্যাগের ওজন যেন কম হয় সেই বিষয় খেয়াল রাখবেন। ভারী ব্যাগ হলে আপনারই বহন করতে কষ্ট হয়ে যাবে। আপনার ব্যাগ যত হালকা হবে আপনি ততই স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারবেন।

এমন ব্যাগ কিনুন যা কোমরে ওজন ছড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে কিন্তু কাঁধের উপরে চাপ কমে যায় এবং হাঁটতে সুবিধা হয়। এ ছাড়া বেশি চেম্বার বা পকেট থাকলে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আলাদা আলাদা করে গুছিয়ে রাখতে পারবেন। ব্যাগ কেনার সময় এ ব্যাপারেও খেয়াল রাখুন।

পোশাক ও ট্রেকিং বুট: ট্রেকিংয়ে পোশাকের ব্যাপারে বিশেষ খেয়াল রাখা জরুরি। পানিতে ভিজলে বা ঘাম তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে এমন কাপড় বেছে নিতে হবে। হালকা রং কম রোদ শোষণ করে তাই হালকা রঙের সুতি পোশাক পরলে ভালো হয়। আরামদায়ক থ্রি-কোয়ার্টার স্পোর্টস প্যান্ট বা ট্রাউজার, জ্যাকেট, টি-শার্ট, ফুল স্লিভ গেঞ্জি এগুলোই ট্রেকারদের বেশি পছন্দ। স্থান, সময় ও ঋতু ভেদে পোশাক আলাদা হয়ে থাকে তাই এগুলোও মাথায় রাখতে হবে।

এ ছাড়া গ্রিপযুক্ত জুতা ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো। পাহাড়ি রাস্তায় পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জুতার অ্যাঙ্কেল ও আর্চ সাপোর্ট থাকলে গ্রিপ ভালো হলে পিছলে যাওয়ার ভয় আর থাকে না। এ ছাড়া জুতা পানি নিরোধক কিনা সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

ফার্স্ট এইড বক্স সঙ্গে রাখা: ট্রেকিংয়ের সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনা যেন সামলে নেয়া যায় সে জন্য ফার্স্ট এইড বক্স সঙ্গে রাখা খুবই জরুরি। যাতে কেউ হুট করে অসুস্থ হয়ে পড়লে যেন তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া যায়। এ ছাড়া অ্যান্টি সেপটিক ক্রিম, দরকারি ওষুধ, মশা নিরোধক ওডোমস, কাঁচি, ব্যান্ডেজ এগুলো গুছিয়ে নিন ট্যুরের আগেই। ট্রেকিংয়ের রুটে জোঁকের আনাগোনা থাকলে সঙ্গে লবণ রাখুন।

শুকনো খাবার সঙ্গে রাখুন: দ্রুত শক্তিবর্ধক এবং সহজেই হজম হয় এমন শুকনো খাবার ব্যাগে রাখুন। চিড়া-গুড়, মুড়ি, চকলেট, খেজুর, ওটসবার, ম্যাংগো বার, কুকিজ, বাদাম এগুলো খুব ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। গ্লুকোজ ও স্যালাইন নিতে ভুলবেন না। খাওয়ার পানির উৎস সম্পর্কে আগেই ধারণা নিয়ে রাখতে হবে। একদিনের বেশি ট্রেকিংয়ের প্ল্যান থাকলে কেক, বিস্কুটের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার নিতে হবে। দেশলাই বা লাইটার ও ছোট স্টোভ নিয়ে গেলে চা, ইনস্ট্যান্ট নুডলস অথবা স্যুপ বানিয়ে নিতে পারবেন।

উচ্চতায় অস্বস্তি সম্পর্কে সচেতনতা: পাহাড়ি ট্রেইলে আরোহণের সময় অনেকেই উচ্চতার কারণে অসুস্থ হয়ে যায়। মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং বমি ভাব দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পথের মাঝে কিছুক্ষণ পর পর বিশ্রাম এবং পানি পান করতে হবে। অবস্থা বেশি খারাপ হলে দ্রুত নিচে নেমে আসতে হবে।

এ বিষয়গুলো ঠিকঠাক অনুসরণ করতে পারলে ট্রেকিং হবে নিরাপদ এবং আনন্দদায়ক। এ ছাড়া ট্রেকিং এ যেখানেই যান না কেন, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই কিন্তু মনে রাখবেন, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করা মোটেও উচিত হবে না।

এসবি/এমএইচ/এইচআই