নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৪ মে ২০২৩ ১০:২৯
ছবি: সংগৃহিত
চিয়া সিড
পুষ্টিকর খাবার। ওজন কমাতে চিয়া সিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এতে থাকা বিভিন্ন
নিউট্রিয়েন্ট শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখে। চিয়া সিড হচ্ছে চিয়া গাছের ছোট
ছোট বীজ। চিয়া সিডের জন্মস্থান মেক্সিকো এবং গোয়াতেমালা। প্রাচীন মায়া এবং এযটেক সভ্যতার
মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল চিয়া সিড। মায়া ভাষায় চিয়া অর্থ শক্তি।
পুষ্টিবিদরা
চিয়া সিডকে সুপারফুড নামে ডাকতে ভালোবাসেন। কারণ, এতে আছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড,
কোয়েরসেটিন, কেম্পফেরল, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ও ক্যাফিক অ্যাসিড নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট,
পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ। এতে আছে
দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি, পালংশাকের চেয়ে
৩ গুণ বেশি আয়রন, কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম, মুরগির ডিম থেকে ৩ গুণ বেশি প্রোটিন,
স্যামন মাছের চেয়ে ৮ গুণ বেশি ওমেগা-৩।
পুষ্টিকর
এই খাবারটি সপ্তাহের সাত দিনই খাওয়া যায়। তবে ৩ থেকে ৪ দিন খেলেও শরীরে উপকারে আসে।
পুষ্টিবিদরা জানান, চিয়া সিডে থাকা ওমেগা-৩ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল
দূর করতে কাজ করে। দিনে দুই চা চামচ চিয়া সিড শরীরের শক্তি দেয় এবং কর্মক্ষমতা বাড়ায়। প্রচুর
পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় চিয়া সিড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে।
মেটাবলিক সিস্টেমকে উন্নত করার মাধ্যমে এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে। এটি রক্তে চিনির
প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে বলে ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমে।
হাড়ের স্বাস্থ্য
রক্ষায় চিয়া সিড দারুণ কাজ করে। কারণ, এতে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। চিয়া সিড কোলন
পরিষ্কার রাখতে কাজ করে বলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। চিয়া সিড শরীর থেকে বিষাক্ত
পদার্থ বের করে আনে। দূর করে অ্যাসিডিটির সমস্যা।চিয়া সিড ভালো ঘুম হতেও সাহায্য করে
বলে বিশ্বাস করেন চিকিৎসকরা। শুধু কি তাই! হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা কমায়। সুন্দর রাখে
ত্বক, চুল ও নখ।
চিয়া সিড
স্বাদ ও গন্ধবিহীন একটি খাবার। এই সিড বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। এটা খাওয়ার জন্য রান্না
করারও দরকার হয় না। এটা ভিজিয়ে রেখে পরিজে মেশানো যায়, এটা দিয়ে পুডিং বানানো যায়,
বেইক করা খাবারে ব্যবহার করা যায় কিংবা সালাদ বা দইয়ের ওপর ছিটিয়ে খাওয়া যায়। চিয়া
সিড পানি শুষে জেল এর রূপ ধারণ করতে পারে, তাই এটা সস ঘন করার কাজেও ব্যবহার করা যায়।
ইউএইচ/