কনটেন্ট ক্রিয়েটর

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


২৯ মে ২০২২ ১০:৪৪



এভারেস্ট দিবস আজ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

২৯ মে ২০২২ ১০:৪৪

এভারেস্ট দিবস আজ

ছবি: উইকিপিডিয়া থেকে

আজ ২৯ মে, বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে এভারেস্ট দিবস । ১৯৫৩ সালের আজকের দিনে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে সর্ব প্রথম এভারেস্ট চূড়ায় পা রাখেন। ১৯৮৬ সালে তেনজিং নোরগে ও ২০০৮ সালে এডমন্ড হিলা্রির মৃত্যু হলে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের দিনকে এভারেস্ট দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ২০০৮ সালে নেপাল সরকার এ দিবসের প্রচলন করে। সেই থেকে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী এ দিনকে এভারেস্ট দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

একই সঙ্গে আজকের দিনে পালন করা হয় তেনজিং নোরগের জন্মদিন। ১৯১৪ সালের মে মাসের শেষের কোন এক দিনে তেনজিং জন্মগ্রহণ করেন। সঠিক দিন জানা না থাকায় তেনজিং নিজেই ২৯ মে তার জন্মদিন পালন করার সিদ্ধান্ত নেন।

৮ হাজার ৮৪৯ মিটার বা ২৯ হাজার ২৯ ফুট উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্টকে নেপালে সাগরমাথা হিসেবে ডাকা হয়। যার অর্থ আকাশের দেবতা। আর তিব্বতে ডাকা হয় চোমোলংমা যার অর্থ পৃথিবীর ধাত্রীমাতা।

১৯২০ সাল থেকে কয়েকটি বৃটিশ অভিযাত্রী দল এভারেস্টে অভিযান চালায়। যার মধ্যে অনেকগুলো অভিযান প্রায় সফলতার কাছাকাছি পৌঁছালেও একদম শেষ পর্যায়ে ব্যর্থ হয়। ১৯৫৩ সালে  স্যার এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগের হাত ধরে প্রথম সফলতা আসে। যদিও ১৯২৪ সালের জর্জ ম্যালোরি ও এন্ড্রু  অরভিনের এভারেস্ট অভিযান নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ওই অভিযানে তাদের দুজনের মৃত্য হলেও অনেকে ধারণা করেন তারা এভারেস্ট চূড়ায় আরোহণ করেছিলেন। ১৯৯৯ সালে এভারেস্টের পথে জর্জ ম্যালোলির মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয়। ম্যালরি এভারেস্ট অভিযানে সহধর্মীনির ছবি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। কথা ছিল চূড়ায় পৌঁছাতে পারলে সে ছবি রেখে আসবেন। ম্যালরির আবিষ্কৃত মৃতদেহের সঙ্গে তার অন্য জিনিসপত্র অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেলেও পাওয়া যায়নি তার সহধর্মীনির ছবি। তাই মনে  করা হয় ম্যালোরিরা চূড়ায় পৌঁছেছিলেন। অরবিনের মৃতদেহও খোঁজা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে ছিল কোডাক ভেস্ট ক্যামেরা। এ ক্যামেরা খুঁজে পেলে হয়তো ধোঁয়াশা দূর হতো। 

১৯৩৫ সালে বিখ্যাত বৃটিশ পর্বতারোহী এরিক শিপটন তার এভারেস্ট অভিযানে শেরপা ও মালবাহক বাছাইয়ের সময়ে তেনজিংকে মালবাহক হিসেবে নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে তেনজিং অভিজ্ঞ শেরপা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ১৯৫৩ সালে হিলারির সঙ্গে এভারেস্ট অভিযানে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান।   

হিলারি ও তেনজিং সব সময় বলতেন, আমরা দুজন একসঙ্গে এভারেস্ট শীর্ষে আরোহণ করেছি। কিন্তু নেপালী ও ভারতের সাংবাদিক ও জনগণ প্রচার করতে লাগল তেনজিং সর্বপ্রথম উঠেছে। হিলারির লেখা দুটো বই High AdventuresView from summit এ লিখেছেন, আমরা একসঙ্গে শীর্ষে পৌঁছালাম। এরপরও এ বিতর্কের অবসান হল না। পরবর্তীতে তেনজিং তার আত্মজীবনী Man of Everest এ স্পষ্টভাবে লিখেছেন যে হিলারিই প্রথম শিখরে আরোহণ করেছিলেন। তাতেও যখন জল্পনা থামল না, তখন তিনি বাধ্য হলেন বলতে – ‘এভারেস্টে হিলারির চেয়ে এক কদম পিছনে এভারেস্ট আরোহণ করাটা যদি আমার জন্য অসম্মানের হয়, তবে তাই হোক। আমি জানি এটা কখনোই অসম্মানের নয়, যেমন নয় আমার এ সত্য বলা। এভারেস্টের সম্মান যেকোনো কিছুর চেয়ে অনেক মূল্যবান। আজ সব কিছু বলা হল। আমি মুক্ত।‘

#এসবি