নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৮ জুন ২০২৩ ০২:২২
ছবি : বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
ঢাকার খুব
কাছেই বিলের ওপর রাতের আকাশে জোছনা দেখতে চাইলে উপযুক্ত জায়গা জল ও জঙ্গলের কাব্য।
প্রকৃতিকে অবিকৃত রাখার প্রয়াসেই বাঁশ আর পাটখড়ির ব্যবহার করা হয়েছে এই জায়গাটিতে।
অল্প খরচে একদিনে ঘুরে আসার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হবে না। ঢাকার অদূরেই ৯০ বিঘা
জমির ওপর গড়ে উঠেছে এক টুকরা গ্রাম। ঢাকার বাসিন্দারা একদিনের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে ঘুরে
আসতে পারেন গাজীপুর জেলার টঙ্গীর পুবাইলের জল ও জঙ্গলের কাব্যে। এই জায়গাটি পাইলট বাড়ি
নামেই স্থানীয়দের কাছে বেশি পরিচিত।
জল ও জঙ্গলের
কাব্য, অন্যান্য রিসোর্টের মতো খুব পরিপাটি বা চকচকে না হলেও এই জায়গাটিতে ঢুকতেই মনটা
প্রশান্তিতে ভরে যাবে। কারণ, এখানে সবকিছুই খুব প্রাকৃতিক। আসলেই যেন জায়গাটি ছোট্ট
এক টুকরা গ্রাম। অনেক গাছপালার শান্ত ছায়া, শীতল বাতাস। এখানে আছে কয়েকটি পুকুর। ঢুকতেই
লেবুর শরবত দিয়ে স্বাগত জানানো হয়, যাতে ভ্রমণের ক্লান্তি অনেকটাই কমে যায়। এরপর নিয়ে
যাওয়া হয় নির্ধারিত কটেজে। কটেজটা মূলত কুঁড়েঘরের মতো, বাঁশের বেড়া দিয়ে বানানো। চারিদিক
খোলা, শুয়ে বা বসে প্রকৃতি দেখা যায়। এখানে বসার জন্য কয়েকটি ছোট ছাউনি ঘেরা জায়গা
আছে।
জায়গাটির
একটু দূরেই দুজন লোক বসে গান গাইছিলেন। মন জুড়ানো বাউল গান, পল্লীগীতি ও মারফতি গান।
প্রকৃতির এমন নির্মল পরিবেশে গানগুলো বেশ মানিয়েছিল বটে।
তার কিছু
দূরেই তাদের বিশাল রান্নাঘর। সবই মাটির চুলায় রান্না হয়। যার কারণেই সম্ভবত স্বাদ আরও
বেড়ে যায়। রান্নাঘরের পাশেই চা-ঘর; যতবার, যতগুলো ইচ্ছে চা বা কফি নেওয়া যায়। খুব যত্ন
সহকারে একজন চা বানান। এখানের কর্মীরা বেশ পেশাদার।
জল ও জঙ্গলের
কাব্যে হুট করে রওনা দিয়ে চলে গেলেই কিন্তু হবে না। প্রথমে একটু ফোন করে খোঁজ নিতে
হবে। কারণ, যে সময়ে যেতে চাচ্ছেন সেই সময়ে খালি আছে কিনা দেখতে হবে। যদি খালি থাকে তাহলে
২০% অগ্রিম টাকা দিয়ে বুকিং দিতে হবে।
এখানের একদিনের
জন্য প্রতিজনের খরচ ২ হাজার টাকা। যার মধ্যে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, বিকেলের
নাশতা আর আনলিমিটেড চা-কফি থাকবে। নাস্তায় চিতই পিঠা, গুড়, লুচি, মাংস, ভাজি, মুড়ি
এবং চা থাকে। আর দুপুরের খাবার হিসেবে ১০-১২ রকম দেশি আইটেম। মোটা চালের ভাত, পোলাও,
মুরগির ঝোল, ছোট মাছ, টক দিয়ে কচুমুখির ঝোল, দেশি রুই মাছ, ডাল, সবজি এবং কয়েক রকমের
সুস্বাদু ভর্তা থাকবে। বোঝাই যাচ্ছে, খাবারের আয়োজনের ত্রুটি রাখেনি এখানকার কর্তৃপক্ষ।
এত কিছুর পরও খরচটা বেশ আয়ত্তের মধ্যেই। শিশু, কাজের লোক ও ড্রাইভারদের জন্য ৬০০
টাকা জনপ্রতি।
রিসোর্টে যাওয়ার মাধ্যম খুব জটিল না। রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে গাজীপুর পরিবহন, ঢাকা পরিবহন, ভিআইপি পরিবহন ও বলাকা পরিবহনে করে যেতে পারেন। জ্যাম না থাকলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর বাস পুবাইল রেলগেটের কাছে নামিয়ে দেবে। সেখান থেকে অটো নিয়ে একদম গেটের সামনে, যেতেই মনোমুগ্ধকর ও প্রাণ জুড়ানো রিসোর্টের দেখা পাবেন।
জেডএস/এইচআই