বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৩:২০



শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল স্বল্পতায় সেবা ব্যাহত

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৩:২০

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল স্বল্পতায় সেবা ব্যাহত

ছবি : সংগৃহীত

যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল স্বল্পতার কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বাইরের পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জনবল সংকটে রয়েছে। চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করাসহ নানা সংকট চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে।

জানা যায়, শার্শা উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও ১টি পৌর সভার প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৬২ সালে নির্মিত হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত হয়ে এখন শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার একাংশের মানুষের নির্ভরতার একমাত্র জায়গা। কিন্তু লোকবল, যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রীসহ সবকিছু এখনও পুরোনো ধাঁচের। হাসপাতালে প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। ভর্তি হন ২৫ থেকে ৩০ জন।

তথ্য মতে, হাসপাতালে মেডিক্যাল কর্মকর্তার পদ সংখ্যা ২২টি থাকলেও খাতা-কলমে আছেন ৭ জন আর কর্মরত ৪ জন। বাকি ৩ জন অন্যত্র ডিউটিতে থাকেন। ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী থাকার কথা ১৪ জন কিন্তু আছে ৮জন। ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচার্রী থাকার কথা ৫ জন আছে ২ জন। এমএলএস ৫ জনের মধ্যে আছে ১ জন। পরিচ্ছতা কর্মী ৫ জনের মধ্যে আছে ১ জন। হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী ২ জনের মধ্যে আছে ১ জন। অফিস সহকারী ৩ জনের একজনও নেই।

২০১৫ সালের ৩ মার্চ থেকে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখানে এখনও চাহিদা মতো কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বহির্বিভাগে টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও চিকিৎসক না থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালটিতে একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি প্রায় সময়ই থাকে নষ্ট। মাঝেমধ্যে ঠিক হলেও থাকে না ফ্লিল্ম।

অনেক মুল্যমানের দুটি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও তা ডাক্তারের অভাবে পড়ে থাকায় গরিব ও অসহায় রোগীদের বাধ্য হয়ে ৩৬ কিলোমিটার দূরে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয় বা এলাকার কোন প্রাইভেট ক্লিনিকে অধিক টাকা দিয়ে অপারেশন করাতে হয়। হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগ থাকা সত্তে¡ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে পাঠানো হয়। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সালাম জানান, হাসপাতালটি খাতা-কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয়সংখ্যক জনবল বাড়ানো হয়নি। যে কারণে জনগণের চাহিদা মতো সেবা দিতে পারছেন না শুধু চিকিৎসক। 

জেডএস/