শেরপুর সংবাদদাতা, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৫ অক্টোবর ২০২২ ১০:০২
সংগৃহীত
শেরপুরের গারো পাহাড়ের বাসিন্দারা
এতোদিন বন্য হাতির আক্রমণের ভয়ে থাকলেও এবার নতুন করে বাঘ আতঙ্কে আছেন। এরইমধ্যে
বাঘের আক্রমণে এক শিশু আহত ও ১৮টি ছাগল খোয়া গেছে বলে দাবি করছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলার
রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিটের বাকাকুড়া নয়াপাড়া, উত্তর গান্ধিগাঁও, হালচাটি ও ছোট
গজনী এলাকায় গত এক সপ্তাহের মধ্যে বাঘের আক্রমণে এক শিশু আহত ও ১৮টি ছাগল খোয়া
গেছে। এর মধ্যে আহত ও ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় একটি ছাগল, একটি ভেড়া ও একটি গরু পাওয়া
গেছে।
এ ব্যাপারে রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিট
কর্মকর্তা মো. মকরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। শোনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকতে বলেছি।
প্রয়োজনে পুরো এলাকায় মাইকিং করা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাছ আলী বলেন, ‘বাঘ
ছাড়া এভাবে ছাগল খোয়া যায় না। গত কয়েকদিন ধরে ছাগল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম ও আবু
তালেব জানান, ‘যখন ছাগল ও ভেড়া হারানো শুরু হয়েছে তখন থেকেই আমরা পাহাড়ের বিভিন্ন
জায়গায় খোঁজা শুরু করি। পরে পাহাড়ের এক টিলায় ছাগলের নাড়ি-ভূঁড়ি পড়ে থাকতে দেখি।
আমাদের কাছে মনে হচ্ছে বাঘ ছাগলগুলোকে খেয়েছে। আমরা এনিয়ে আতঙ্কে আছি।’
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সীমান্ত
এলাকার কৃষকরা তাদের গরু-ছাগলগুলোকে ঘাস খাওয়ার জন্য সকালে পাহাড়ে ছেড়ে দেয়।
সারাদিন ঘাস খাওয়া পর সন্ধ্যায় এগুলোকে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ১৮টি
ছাগল বাড়ি ফিরেনি। পরে কয়েকজন কৃষক খোঁজ করতে গিয়ে পাহাড়ের এক টিলায় কয়েকটি ছাগলের
নাড়িভূঁড়ি পড়ে থাকতে দেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, বাকাকুড়া গ্রামের সাগরের দুটি ছাগল, আমিনুলের একটি ছাগল, গান্ধিগাঁও গ্রামের আলমের একটি ছাগল, ঠান্ডু পাগলার একটি ছাগল, আক্তারের একটি ছাগলসহ মোট ১৮টি ছাগল খোয়া গেছে।
এছাড়াও গান্ধিগাঁও গ্রামের মঞ্জু
মিয়ার একটি গরু ও সবুজ মিয়ার একটি ভেড়া আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। অপরদিকে,
উত্তর বাকাকুড়া গ্রামের গুজা ওরফে গজেন্দ্র মারাকের আট বছর বয়সী ছেলেকে আহত
অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনার পর সীমান্তের ওই গ্রামগুলোতে বাঘ আতংক বিরাজ
করছে।
শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক আবু ইউসুফ বলেন, সীমান্তে যে বাঘের কথাটি শুনা যাচ্ছে এটা আসলে কতটা সত্যি আমার জানা নেই। এলাকাবাসীর কথা বাঘটি নাকি ছোট, যদি ছোট হয়ে থাকে তাহলে গবাদি পশু কিভায়ে খায়। তারপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি, আগামীকাল এলাকায় মাইকিং করা হবে।
জেবি/