ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৭ অক্টোবর ২০২৩ ০৬:৩৩
ছবি : সংগৃহীত
প্লুটোকে এক সময় বলা হতো নবম গ্রহ। তবে প্লুটোকে এখন বলা হয় বামনগ্রহ। নবমগ্রহ ছড়া সৌরজগৎ অসম্পূর্ণ মনে করতেন জ্যোতির্বিদেরা। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় নবম গ্রহের ধারণা এবং ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্বও বিলীন হচ্ছে বলে জানায় স্পেস ডট কম। এ গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ক্যাথরিন ব্রাউন ও কেস ওয়েস্টার্ন বিশ্বদ্যিালয়ের গবেষক হর্ষ মাথুর।
তারা সৌরজগতের
শেষ প্রান্তের ওপর মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। তারপর
নতুন এই উপসংহারে পৌঁছেছেন। এজন্য তারা নিউটনীয় বলবিদ্যাকে সংশোধন করার কথাও বলছেন।
এ বিষয়ক তাদের নতুন তত্ত্বের নাম দেওয়া হয়েছে মডিফাইড নিউটনিয়ান মেকানিকস বা মন্ড
(MOND)। আর এই তত্ত্ব সঠিক হলে জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান থেকে বিলীন হতে পারে বহুল আলোচিত
ডার্কম্যাটার তত্ত্ব।
ডার্ক ম্যাটার তত্ত্ব দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে প্রহেলিকা হয়ে আছে। গোটা মহাবিশ্বের মোট যত বস্তু আছে, তার ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার। মাত্র ১৫ শতাংশ দৃশ্যমান বস্তু। অর্থাৎ মহাকাশে যত গ্যালাক্সি, গ্রহ, নক্ষত্র, ধুলাবালি দেখি, তা মহাবিশ্বের মোট পদার্থের মাত্র ১৫ শতাংশ। জ্যোতিঃপদার্থবিদেরা মনে করেন, প্রতিটা গ্যালাক্সিতে আছে ডার্কম্যাটারের অস্তিত্ব।
যদি ডার্ক
ম্যাটার না থাকত আমাদের গ্যালাক্সি তার নক্ষত্র-গ্রহ-উপগ্রহ-গ্রহাণু নিয়ে যে বেগে
ঘোরে সেখানে ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনত। মূলত ডার্ক ম্যাটারের মহাকর্ষীয় টান এদেরকে একত্রে ধরে রাখে। গ্যালাক্সিতে গ্রহ-নক্ষত্রদের আটকে রাখার জন্য ডার্ক ম্যাটার আঠার মতো কাজ করে।
মন্ড বা সংশোধিত এই নিউটনীয় তত্ত্ব দিয়ে ডার্ক ম্যাটার ছাড়াই গ্যালাক্সিতে গ্রহ-নক্ষত্রগুলো একত্রে থাকে, ছুটে গিয়ে মহাবিশ্বে হারিয়ে যায় না, তার ব্যাখ্যা দিতে পারে। অর্থাৎ মন্ড থিওরি বাতিল করে দেয় ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব। যদি নিউটন-আইনস্টাইনের প্রতিষ্ঠিত ক্ল্যাসিক মহাকর্ষ পুরোপুরি ঠিক হয়, তাহলে মহাবিশ্বে-গ্যালাক্সিতে অবশ্যই ডার্কম্যাটারের উপস্থিতি থাকতে হবে। এর পরিবর্তে ক্যাথরিন ও হর্ষ বলছেন, গ্রেট রোটেশেনাল ভ্যালোসিটির কথা। মন্ড তত্ত্ব এই বেগের অধীনে গ্যালাক্সির ঘূর্ণন ব্যাখ্যা করতে পারে বেশ ভালোভাবেই।
কিন্তু সৌরজগতে সূর্যের চারপাশে গ্রহ-নক্ষত্রগুলোর ঘূর্ণন কি ব্যাখ্যা করতে পারে এই তত্ত্ব?হর্ষ মাথুর বলছেন, ‘মন্ড গ্যালাটিক স্কেলে বস্তুদের গতি ও ঘূর্ণনের ব্যাখ্যা বেশ ভালোভাবেই করতে পারে, আমরা আশা করিনি আউটার সোলার সিস্টেম বা সৌরজগতে বাইরের নাক্ষত্ওরের পদ্ধতিতেও এটা কাজ করবে।’
তবে মজার ব্যাপার
হলো, এই মন্ড তত্ত্বকে যদি ঠিকভাবে কাজ করতে হয় তাহলে নবমগ্রহকে বাতিল করতে হবে। কুইপার বেল্টে যে অসাঞ্জস্যতা, সেটাকে মন্ড দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়
কিনা, সেটা খতিয়ে দেখেছিলেন হর্ষ ও ক্যাথেরিন। তারা দেখেন, মন্ড তত্ত্ব এই ব্যাপারটিকে
ভালোভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে ক্যাথরিন এখনই মন্ডকে শতভাগ নিঁখুত তত্ত্ব বলতে
রাজি নন। তিনি মনে করেন, প্রচলিত অন্য তত্ত্বগুলিও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সত্যি বলে প্রমাণিত
হতে পারে।
সূত্র: স্পেস ডট কম
জেডএস/