শেখ সাদী খান, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২১ নভেম্বর ২০২৩ ০৮:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
দ্বাদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ আসনে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন রাজবাড়ী জেলা
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র নেতা শেখ সোহেল রানা টিপু। তিনি নিয়মিত
উঠান বৈঠকের পাশাপাশি গণসংযোগ করে বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের
কাছে তুলে ধরে পুনরায় নৌকায় ভোট চাইছেন।
দীর্ঘদিন
ধরেই রাজবাড়ী-২ আসনে দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন টিপু।
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন ইউনিয়ন,
ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন টিপু। তিনি দরিদ্র অসহায় মানুষের
বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, রক্তদান কর্মসূচি খেলাধূলার সামগ্রী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি,
সরকারি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, করোনাকালীন সময়ে রাজবাড়ী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল,
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ,মসজিদ,মাদ্রাসা,মন্দিরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার,পিপিই
ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, গরীব অসহায় মানুষের ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তার
পাশাপাশি অনেক পরিবারের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।এছাড়া রাজবাড়ী জেলায়
আওয়ামী লীগের যত প্রবীণ নেতা-কর্মী আছেন তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
আগামী
জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়ে শেখ সোহেল রানা টিপু বেঙ্গলনিউজ
টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার জন্য তরুণ নেতৃত্বকে বেছে নিবেন দলীয়
সভাপতি শেখ হাসিনা। উনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন শত ফুল ফুটতে দিন সেখান থেকে আমি বেছে
নেবো। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনা অধিকাংশ জায়গায় তরুণ মেধাবী শিক্ষিত,
ত্যাগীদের সুযোগ করে দিবেন বলে প্রত্যাশা করি। শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে
একজন স্বপ্ন সারথি হতে চাই। যেহেতু দীর্ঘদিন রাজনীতির সাথে জড়িত আছি, তৃণমূলের মানুষ
মনে করে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি, তাদের সুখে-দুঃখে নিবিড়ভাবে
জড়িয়ে আছি তাদের এই চাওয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
তরুণদের
কর্মসংস্থানের ব্যাপারে এই নেতা বলেন, যারা শিক্ষিত বেকার,তাদেরকে কারিগরি শিক্ষায়
প্রশিক্ষিত করে আইসিটিতে যে বিশাল কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে সেখানে কাজে লাগানো। আজকাল
অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং করে বাড়িতে থেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে। গ্রামের শিক্ষিত বেকারদের
একটু সহায়তা করলে, বিশেষ করে শেখ রাসেল স্মৃতি ল্যাবের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিলে তারা
আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে দেশের অর্থনীতিতে। এবং আওয়ামী লীগের ২০২৪ সালের যে নির্বাচনী
ইশতেহার সেখানে বেকারদের কর্মসংস্থানের কথা জোরালোভাবে বলা হয়েছে। সুতরাং বেকারত্ব
হ্রাস করা আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ ও উদ্দেশ্য থাকবে যদি দল থেকে মনোনয়ন পাই ও সংসদ
সদস্য নির্বাচিত হতে পারি।
রাজনৈতিক
ক্যারিয়ারে নানা আন্দোলন সংগ্রামের সাথে জড়িত ছিলেন শেখ সোহেল রানা টিপু। তিনি ২০০০
সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিতর্কিত রায়ের প্রতিবাদে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে
১৪ দিন হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে ভর্তি ছিলেন। ২০০১ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত ভোটের
নির্বাচনে কারচুপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে সর্বপ্রথম ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের যে ১৭ জন নেতা-কর্মী আন্দোলন ও প্রতিবাদ করেন শেখ সোহেল
রানা টিপু তাদের একজন।
২০০২
সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শামসুন্নাহার হলে ছাত্রীদের ওপর তৎকালীন পুলিশ ও ছাত্রদলের
নির্যাতনের প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হন তিনি।
২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের হাতে ১৩ বার নির্যাতনের শিকার হন। ২০০৭ সালে তৎকালীন
অনির্বাচিত সেনাসমর্থিত সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে না দিতে চাইলে সর্বপ্রথম শাহবাগে
মিছিলের নেতৃত্ব দেন এবং তিন দিন ছাত্র ধর্মঘটের নেতৃত্ব দেন। ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দান, কালো ব্যাজ ধারণ, অনশন,গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, মানববন্ধন,
মিছিল করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। অনির্বাচিত
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানী প্রথম ৭ জনের
একজন হয়ে জরুরি আইনে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হন। এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল
আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন।
শেখ
সোহেল রানা টিপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এর সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক
লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
এমএইচ/