সাজেদুল ইসলাম যাওয়াদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:০৮



তারুন্যের ভাবনায় আদৌ কি নৌকা?

সাজেদুল ইসলাম যাওয়াদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:০৮

তারুন্যের ভাবনায় আদৌ কি নৌকা?

ছবি: সংগৃহীত

একটি রাষ্ট্র ব্যর্থ কি সফল হবে তা বেশ কয়েকটি নির্দেশকের ওপর নির্ভর করে। ওই সব নির্দেশকের মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। শিক্ষাই অগ্রগতি তথা রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশ সরকারও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রসার ও জনগণকে শতভাগ শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শুধু উদ্যোগ গ্রহণ করেই সরকার থেমে যায় নি ,মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকার সেই সব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। কারণ শিক্ষার মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব এবং সেই পরিবর্তনের মাধ্যমেই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া সম্ভবপর হবে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ছয়টি। বর্তমানে দেশে ৫২টি পাবলিক ও ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। দেশে প্রাথমিক শিক্ষার হার প্রায় শতভাগ। স্কুল ফিডিং প্রকল্প, শতভাগ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকে উপবৃত্তি প্রদান, নারী শিক্ষা, বছরের প্রথম দিনে নতুন বই- এরকম উদ্যোগগুলো সাফল্যের মুখ দেখেছে শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ নেতৃত্বের গুণে।
শিক্ষার্থী হিসেবে স্নাতক-স্নাতকোত্তর পর্যায়ে "প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট" আমাদের উচ্চ শিক্ষার চলার পথকে অনেকটা সহজ করে দিয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কলার এওয়ার্ড ( যার মধ্যে গত পুরস্কার বিতরণীতে মাস্টার্স পড়ুয়া ২২ জন শিক্ষার্থী ১৬ টি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন)
প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ এর মাধ্যমে বর্তমানে রিসার্চ, একাডেমিক গ্রেডিং ও গবেষণা বিষয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করার স্বার্থে বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা দেশ ও দেশের বাইরে স্কলারশিপের জন্য যেতে পারছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষেও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬৪ জন শিক্ষার্থী এই ফেলোশিপে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে এবং পঞ্চম শিল্প বিপ্লব কড়া নাড়ছে। এ চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষে এর ৮৪টি বিভাগ, ১৩টি অনুষদ, ১২টি ইনস্টিটিউট, ৫৮টি সেন্টার কাজ করছে, যা এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি। শিক্ষা, গবেষণা এবং অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের মাধ্যমে জেন্ডার সমতা, ন্যায়বিচার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমসাময়িক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এভাবে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটরা। নির্বাচনে ৩ কোটির বেশি তরুণ ভোটার। যাদের বসয় এখন ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।
এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার তরুণ এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন। যারা দেশের মোট ভোটারের ১৬ শতাংশের বেশি।
শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধার বাইরেও বিদেশ ফেরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা চালু করেছেন রেইচ "RAISE" প্রকল্প যেখানে কোভিড -১৯ এ আয়ের উৎস হারানো উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বাঙ্গালীদের প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, বর্তমানে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার তরূণ এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ছোট-বড় উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে স্বাবলম্বী হয়েছে।
স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট উদ্যোক্তা তৈরিতে নতুন ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ)। দেশে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১৪টি জেলায় ৪৪ একরেরও বেশি জমিতে গড়ে উঠছে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার। বিএইচটিপিএর আওতায় গড়ে ওঠা এসব সেন্টারে ন্যূনতম মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আইটি ও আইটিএসে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করা হবে। তৃণমূল থেকেই যাতে তরুণরা তাদের আইডিয়ার বিকাশ ঘটাতে পারে সে জন্য নানা সুবিধা থাকছে ১৪টি সেন্টার, ১৪টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের প্রতিটিতে ১ হাজার জনের কর্মসংস্থান ও ১০০ জন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।
সবধরনের সুযোগ সুবিধাকে একদিকে রেখেও যদি আমি চিন্তা করি, ২০০৬ এর আগেও আমাদের দেশের মানুষের শুধু চিন্তাভাবনা করার ক্ষেত্রটিও কিন্তু এতোটা মুক্ত ছিল না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশের তরুণ সমাজের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য যেসকল নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত করে দিয়েছেন তার জন্য আমি একজন নাগরিক হিসেবে তার কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।
আমার মত শত তরুণ যারা প্রথমবার ভোট দেবেন তারা চান এই উন্নয়ন ধারা অব্যাহত থাকুক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার হাত ধরে। তরুণ প্রজন্ম তাদের ডাইনামিক নেত্রী শেখ হাসিনা ভরসা করেন। তাই এই তরুণ ভোটারদের ভোটের জোয়ারে ভেসে আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকা পৌঁছে যাবে বিজয়ের বন্দরে, ইনশাআল্লাহ। আরো একবার নৌকার জয় হোক, জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী ও সামাজিক কাঠামো এর বিশাল উন্নতি সৃষ্টিকারী সরকার ব্যবস্থার।
তাই তো টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাটুরিয়া সর্বত্র তারুণ্যে একটাই স্লোগান -" Once Again Sheikh Hasina"
এমএইচ/