ফুলবাড়ী(দিনাজপুর)সংবাদদাতা

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


২২ অক্টোবর ২০২২ ০৬:৫৫



ফুলবাড়ীতে শ্যামাপূজা উপলক্ষে প্রদীপ কেনার ধুম

ফুলবাড়ী(দিনাজপুর)সংবাদদাতা, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

২২ অক্টোবর ২০২২ ০৬:৫৫

ফুলবাড়ীতে শ্যামাপূজা উপলক্ষে প্রদীপ কেনার ধুম

ছবি:ফুলবাড়ী(দিনাজপুর)সংবাদদাতা

আগামী সোমবার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা ও দীপাবলি। এদিন সন্ধ্যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ির সম্মুখে ও দরজায় জ্বালানো হয় প্রদীপ। সকল অশুভ শক্তি দূর করে জগত আলোয় আলোকিত করার প্রার্থনায় এ প্রদীপ জ্বালানো হয়।  দীপাবলী কথাটি এসেছে ‘দীপ’ এবং ‘ওয়ালি’ এই দুই শব্দের সন্ধি করে। দীপ কথার অর্থ প্রদীপ এবং ওয়ালি কথার অর্থ সারি । অর্থাৎ দীপাবলি কথার অর্থ প্রদীপের সারি । তাই দিপাবলি রাতে সারি সারি প্রদীপ জ্বালিয়ে বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চারপাশের সকল অন্ধকার দূর করে থাকেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

দীপাবলি উপলক্ষে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাটির তৈরি প্রদীপ বেচাকেনার ধুম পড়েছে। এক সময় এই মাটির প্রদীপের ব্যাপক প্রচলন থাকলেও, বর্তমান সময়ে আধুনিকতার কারণে ইলেক্ট্রনিক্স মরিচ বাতি ব্যবহার বেড়েছে।

ফুলবাড়ী পৌর এলাকার পাল পাড়া গ্রামের অশোক কুমার পাল জানান, তিনি শ্যামাপূজা ও দীপাবলী উপলক্ষে প্রতি বছর মাটির প্রদীপ তৈরি করে বিক্রি করেন। এবার তিনি ৫ হাজার প্রদীপ তৈরি করেছেন।

তিনি আরও জানান, মাটির তৈরি প্রদীপ একশ’ পিস ১০০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি ছাড়াও এ এলাকার অনেকেই এই মাটির তৈরি প্রদীপ বানিয়ে বিক্রি করেন। এখন ইলেকট্রিক বাতি বিশেষ করে মরিচ বাতি বাজারে পাওয়া যাওয়ার কারণে মাটির তৈরি প্রদীপের বিক্রি কিছুটা কম। তবে এর কদর এখনও রয়েছে।

ফুলবাড়ী পৌর বাজারে মাটির তৈরি দিয়ার কিনতে আসা রিতা রানী রায় বলেন, ‘তিনি ১০০ পিস প্রদীপ কিনেছেন। আগামী সোমবার সন্ধ্যায় এগুলোতে তেল দিয়ে তুলা কিংবা কাপড়ের সলতে বানিয়ে জ্বালানো হবে। তবে আগে অনেক বেশি প্রদীপ জ্বালালেও এবার কম জ্বালাবেন। কারণ তেলে দাম অনেক বেশি।

ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের পুরোহিত সুধামা উপাধ্যায় জানান, এই দিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ফিরে আসা উপলক্ষে এবং সকল অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে পৃথিবীকে আলোয় আলোময় করতে প্রদীপ জ্বালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে শ্যামাপূজা ও দীপাবলী উদযাপন করা হবে।’ 

জানা যায়, রামায়ণ অনুসারে রামচন্দ্র পিতার আদেশ রক্ষা করার জন্য চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে গিয়েছিলেন সীতার সঙ্গে। সীতাকে অপহরণ করা হলে ফিরে পাওয়ার জন্য রাবনের সঙ্গে লড়াই করে তাকে হত্যা করেন। সীতাকে ফিরে পান। শ্রীরামচন্দ্রের চৌদ্দ বছরের দীর্ঘ বিরহে অযোধ্যাবাসী যখন কাতর, তখন তিনি বনবাসলীলা শেষ করে অশুভ পরাশক্তিকে নাশ করে দামোদর মাসে (কার্তিক মাস) কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যার তিথিতে অযোধ্যা নগরীতে ফিরে আসার কথা জানান। শ্রীরামচন্দ্রের আগমন বার্তা পেয়ে রাজা ভরত সমগ্র নগরে উৎসবের ঘোষণা দিলে, সমগ্র নগরী আলোর উৎসবের সাজে সজ্জিত হয়ে ওঠে। সব অমঙ্গল, অকল্যাণ দূর হবে এই শুভ কামনায় পথে পথে, বাড়িতে বাড়িতে, গাছে গাছে সর্বত্রই মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখেন অযোধ্যাবাসী।

জেবি/