কনটেন্ট ক্রিয়েটর, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৬ মে ২০২২ ১২:৫০
হালদায় ব্যস্ততা শুরু হয়েছে ডিম সংগ্রহকারীদের
প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে কয়েকটি স্থানে কার্প জাতীয় (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস) মা মাছ ‘নমুনা ডিম’ ছাড়তে শুরু করেছে। তবে শুরুতে খুব কম ডিম মিলেছে বলে জানাচ্ছেন ডিম সংগ্রহকারীরা।
প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুন মাসের পূর্ণিমা ও অমাবস্যার কয়েকদিন আগে-পরে জোয়ার ও ভাটার সময় কার্প জাতীয় মা মাছ হালদা নদীতে ডিম ছাড়ে। গত শুক্রবার পূর্ণিমার জোয়ার শুরু হয়, মেঘের গর্জনসহ ভারিবর্ষণ হলেই ডিম ছাড়ে মা মাছ।
সোমবার ভোরে বৈশাখী পূর্ণিমার জোয়ারের সময়ে মা মাছ ডিম ছাড়ে। অবশ্য তখন পাহাড়ি ঢল কিংবা বৃষ্টি কোনোটাই ছিল না।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী জানান, রবিবার রাত থেকেই হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ভোরে মা মাছ ভোরে খুবই অল্প পরিমাণে ডিম ছেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মদুনাঘাট থেকে রামদাস মুন্সির হাট পর্যন্ত এলাকায় খুবই কম পরিমাণ ডিম মিলেছে। উজানের দিকে তেমন ডিম মিলছে না। পাহাড়ি ঢল বা বৃষ্টি না হওয়ায় এমনটা হতে পারে। পরের জোয়ারে কতটা পাওয়া যায়, সেজন্য অপেক্ষা করছেন ডিম সংগ্রহারীরা
হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরুন নেসা জানান, হাটহাজারীর গড়দুয়ারা ও মার্দাশা ইউনিয়নের মাছুয়াঘোনা ও নয়াহাট এলাকা সহ কয়েকটি স্থানে অপেক্ষায় থাকা ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ নমুনা ডিম পেয়েছেন। তবে সেটার পরিমাণ খুব বেশি নয়।
এবার নদীর পরিবেশ তুলনামূলক বেশি নিরাপদ হওয়ায় ধীরে ধীরে বেশি ডিম মিলছে পারে বলে ধারণা করছেন প্রশাসন ও নদী গবেষকরা। তারা জানাচ্ছেন, নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করতে প্রায় চার-পাঁচশ নৌকা নিয়ে প্রায় ১০০০ ডিম সংগ্রহকারী অপেক্ষায় আছেন।
হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতেও মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। সামনে বজ্রসহ বৃষ্টি হলে পুরোদমে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হালদায় পানির ভৌত ও রাসায়নিক গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলো এখন আদর্শমানের ভিতর রয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল আলম জানান, ডিম ছাড়ার আগে মা মাছ খুবই দুর্বল থাকে। তাই এ সময়টাতে মা মাছ নিধনকারীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। এসব অপতৎপরতা রোধে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
ডিম সংগ্রহকারীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা ও তদারকি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।