নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ০৭:৫৮
ছবি: বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
জাবা, গারোদের আঞ্চলিক ভাষায় এর অর্থ তরকারি। এই নামেই রাজধানীর গ্রিন রোডে গারো সম্প্রদায়ের তরুণ সুমন নংমিন একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন। ঐতিহ্যেবাহী গারোদের খাবার ও সংস্কৃতিকে সবার কাছে পরিচিত করে তুলতে জাবা নামের এ রেস্টুরেন্ট দিয়েছেন তিনি।
ঢাকায় পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিসত্তার
খাবারের দোকান থাকলেও গারোদের খাবারের রেস্তোরাঁ এটিই প্রথম বলে জানান সুমন।
রেস্তোরাঁটিতে ঢুকলেই প্রথমে চোখে পড়বে
বসার জন্য বাঁশ ও বেতের তৈরি মোড়া ও চেয়ার–টেবিল। অন্দরসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে
নানা তৈজসপত্র। আছে গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক দকমান্দাও। দেয়ালে ঝোলানো কোনো
কোনো ছবিতে গারো গ্রামের মানুষের কর্মব্যস্ততার চিত্রও স্পষ্ট। ছোটবেলা থেকেই নিজের ঐতিহ্যকে সবার সামনে তুলে ধরার তাগিদ ছিল তারই
অংশ হিসেবেই এ রেস্তোরাঁ দেয়া হয়েছে বলে জানান সুমন।
জাবা রেস্তোরাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য তেল
ও মসলার ব্যবহার খুবই কম। এখানে স্পেশাল বেম্বো চিকেন, বেম্বো বিন্নি,
কলাপাতার বিন্নি চালের পিঠা, বিন্নি চালের পায়েস, ভর্তা, মাংস, সামুদ্রিক মাছসহ
নানা ধরনের সুস্বাদু গারো খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
এখানে আসা কাস্টমাররা জানান, জাবা
রেস্তোরাঁর সব ধরনের খাবারই খুবই মজাদার। তবে কলাপাতার বিন্নি চালের পিঠা, বিন্নি
চালের পায়েস এগুলোর ভেতরে একটা ভিন্ন স্বাদ পাওয়া যায়।
এই রেস্টুরেন্টে যেসব খাবার পরিবেশন
করা হচ্ছে, এর বড় অংশ আসছে গ্রাম থেকে জানিয়ে উদ্যোক্তা সুমন বলছেন, ট্র্যাডিশনাল খাবার নিয়ে কাজ করা সাধারণ খাবারের চেয়ে বেশি কষ্টকর।
বলেন, শুরু থেকেই ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করেছেন, এখন বেশ সুফল পাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এ উদ্যোক্তা বলেন, ‘জাবা রেস্তোরাঁ, জাবা ক্র্যাফট ও জাবা এন্টারটেইনমেন্টকে পরিপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ইচ্ছা তার। এ ছাড়া ঢাকার বেশকিছু জায়গায় জাবা রেস্তোরাঁর আউটলেট দেওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেন সুমন।
এইচআই