নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ০৫:২২
ছবি: বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
শীত এলে কদর বাড়ে খেজুর গুড়ের। প্রাচীনকাল থেকে এখন পর্যন্ত খেজুর গুড়ের জন্য বিখ্যাত যশোর। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও এখানকার তৈরি পাটালি ও ঝোলা গুড়ের বেশ চাহিদা রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে এখানে খেজুর গুড় থেকে চিনি তৈরি করা হতো। এই চিনি ‘ব্রাউন সুগার’ নামে পরিচিত ছিল, যা ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো।
যশোর কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট খেজুর গাছের সংখ্যা ১৬ লাখ ৪১ হাজার
১৫৫টি। এর মধ্যে রস উৎপাদিত হয় এমন খেজুর গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৫টি। এসব
গাছ থেকে বছরে ৫ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার ২৫০ লিটার রস উৎপাদিত হয়। বছরে গুড়
উৎপাদিত হয় ৫২ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৫ কেজি। যার বাজারমূল্য ১০০ কোটি টাকার উপরে। বর্তমানে
জেলার ৮ উপজেলায় গাছির সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ২০০ জন।
জেলার সদর উপজেলার কাশিমপুর
গ্রামের দুই ভাই ওমর আলী সরদার ও আবু তালেব সরদার প্রায় ৩০ বছর ধরে খেজুর গুড় তৈরি
করে আসছেন।
গাছি ওমর আলী সরদার ও আবু তালেব
সরদার জানান, বছরে ৪ মাসের মতো সময় পাওয়া যায় গুড় তৈরির জন্য। এ সময় তাদের ব্যস্ততা
কাটে খেজুর রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে।
গাছি ওমর আলী আরও জানান, তীব্র শীত
ও কুয়াশার মধ্যেও গাছ থেকে মাটির হাঁড়ি নামিয়ে আনা হয় খেজুরের রস। এরপর সেই রস ৩
থেকে ৪ ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন গুড়।