নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ০৭:৫৭
ছবি: বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
ভ্রমণের
জন্য রোমাঞ্চকর এক স্থান চন্দ্রনাথ পাহাড়। এই পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন
স্থান থেকে পর্যটকরা ভিড় করেন। অনেকেই বিশাল এই পাহাড়ে উঠতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে নিচে
নেমে যান। আবার অনেকেই পাহাড় জয়ের আনন্দ নিয়ে সেখান থেকে ফেরেন।
চট্টগ্রাম
শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে সাড়ে ৩ কিলোমিটার পূর্বে
চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অবস্থান। এর সর্বোচ্চ চূড়ার উচ্চতা এক হাজার ১শ ৫২ ফুট। চন্দ্রনাথ
পাহাড়ের চূড়ায় আছে শিব মন্দির।
তবে মন্দির
দর্শনের জন্য আপনাকে পাড়ি দিতে হবে ২ হাজার ২শ’টিরও বেশি সিঁড়ি। কোনো কোনো স্থানের
সিঁড়িগুলো এতটাই পিচ্ছিল ও সংকীর্ণ যে উঠা বিপজ্জনক হতে পারে। আর বুঝতেই পারছেন, সামান্য
এদিক-সেদিক হলে পা পিছলে পড়বেন পাহাড়ের খাদে।
১৫ মিনিট
উঠার পর একটি ছোট ঝরনা দেখতে পাবেন। যার দুই পাশে দুটি পথ যা উঠে গেছে একদম পাহাড়ের
চূড়োয়। বামপাশের পথ দিয়ে উঠা সহজ। ডানপাশের পথ দিয়ে নামা সহজ। তাই বামপাশের পথ
ধরে উপরে উঠতে থাকুন।
প্রায় দেড় ঘণ্টা আরোহণের পর চন্দ্রনাথ মন্দির পৌঁছানোর আগে বিরুপাক্ষ নামে আরেকটি মন্দির পড়বে। এত কঠিন পথ পাড়ি দিতে হলেও আশপাশের সবুজে ঘেরা অকৃত্রিম মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। পাহাড়ে উঠার ফাঁকে ফাঁকে ছবি তুলে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে ফ্রেমবন্দী করে রাখতে পারেন। মাঝে মাঝে থেমে বিশ্রাম নিতে পারবেন চায়ের দোকানগুলোতে। গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
তবে সব কষ্ট মুহূর্তেই ভুলে যাবেন চন্দ্রনাথ মন্দিরের উপরে উঠে আশপাশের দৃশ্য দেখার পর। চারপাশ শুধু সবুজ আর সবুজ। যেন কোনো শিল্পী তার নিপুণ হাতে রঙ তুলিতে আঁকা। সীতাকুণ্ডের প্রায় পুরোটাই দেখতে পাবেন এখান থেকে। চারদিকে দিকে তাকিয়ে এক ঐশ্বরিক অনুভূতিতে আপনার মন প্রাণ জুড়িয়ে যাবে মুহূর্তেই। পাহাড়ে উঠতে এর আশেপাশে অনেক সাধু-সন্নাসীরা বসে ধ্যান করেন। কেউ কেউ পূজো করে থাকেন।
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ঘুড়তে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এখানে অনেক ভালো লেগেছে। তবে আমি অনেক উঁচু উঁচু পাহাড়ে উঠেছি এই পাহাড়টিতে উঠতে অনেক কষ্ট হয়েছে। কারণ পাহাড়টি অনেক সরু, সিঁড়িগুলো ছোট ছোট।