নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ০৪:৫১
ছবি: বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
শিক্ষাকে
জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তবে ছিন্নমূল শিশুরা এই
শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, সেই সঙ্গে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য এসব শিশু সুযোগ পায় না। এসব
ছিন্নমূল শিশুকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানেই গড়ে উঠেছে
বেশকিছু স্কুল। তেমনি রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পান্তকুঞ্জ পার্কের সামনে ফুটপাতে
ছিন্নমূল শিশুদের জন্য ফিউচার নেশন ফাউন্ডেশন নামের একটি স্কুল শিক্ষা দিচ্ছে। এ স্কুলটির
উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা পুলিশ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান সকাল। ৯ বছর আগে এ স্কুলটির যাত্রা
শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ৬০ জন শিশু পড়াশোনা করছে এ স্কুলে। এসব শিশু সরাসরি ফিউচার
নেশন ফাউন্ডেশন স্কুলের নামেই পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।
নেই কোনো
আলাদা আলোর ব্যবস্থা। সড়কবাতির আলোতেই ফুটপাতে এভাবেই সুর করে বই পড়তে ব্যস্ত এসব ছিন্নমূল
শিশু। স্বপ্ন দেখছে বড় হওয়ার। সপ্তাহের সাত দিনই সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত
এভাবেই চলে স্কুলটি। এ ছাড়া এ স্কুলে যারা পড়াশোনা করছে তারা সবাই ছিন্নমূল শিশু বলে
জানায় স্কুলটির উদ্যোক্তারা।
দিনভর নানান
কাজে ব্যস্ত থাকলেও সন্ধ্যা হলেই স্কুলে চলে আসে এসব ছিন্নমূল শিশু। রাস্তার কোলাহলে
নজর না দিয়েই পড়াশোনাই ব্যস্ত এসব শিশু। কেউ হতে চায় চিকিৎসক, কেউবা পুলিশ। বড় হয়ে
মানুষের সেবা করতে চায় তারা।
নিয়মিত ডিউটি
শেষে এসব ছিন্নমূল শিশুকে পড়াতে আসেন পুলিশ অফিসার জাহিদুর রহমান। রয়েছে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকও।
বিনামূল্যে দেয়া হয় বই-খাতাসহ শিক্ষা উপকরণ। ফুটপাত হলেও এসব ছিন্নমূল শিশুকে দিয়েছেন
স্কুলড্রেসও। তিনি জানান, এখানে পড়তে আসা শিশুরা বেশির ভাগই দুই বেলা ঠিকমতো খেতে পারে না।
এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বেশির ভাগ শিশুই নিয়মিত স্কুলে আসে বলে জানান এই উদ্যোক্তা।
এসব শিশুকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাতার থেকে তুলে এনে মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই এ স্কুলের লক্ষ্য বলে জানান উদ্যোক্তারা। সরকার এবং সচেতন নাগরিকদের এসব ছিন্নমূল শিশুকে নিয়ে দ্রুতই চিন্তা-ভাবনা করা উচিত বলে মনে করেন তারা।
এইচআই